৭ এপ্রিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে কাজের সময় নিরাপত্তার পাশাপাশি নানা বিষয়ে বৈঠক হয়। সেখানেই ইম্পার উপস্থিতিতে ফেডারেশন এবং আর্টিস্ট ফোরাম ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স এবং অরগ্যানিক প্রযোজনা সংস্থাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর উক্ত দুই প্রযোজনা সংস্থার প্রযোজনায় চলা 'চিরসখা', 'ভোলে বাবা পার করেগা', এবং 'কনে দেখা আলো' বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকেই এই তিন ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত থাকা বিভিন্ন অভিনেতারা প্রতিবাদ করতে থাকেন। এবার তারা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিলেন। 

৮ এপ্রিল প্রথমে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের মুভি টোনে 'চিরসখা' সহ ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স এবং অরগ্যানিক প্রযোজনা সংস্থার অভিনেতা, কলাকুশলীরা বৈঠক করেন। তারপর ভিভান ঘোষ, রাজা গোস্বামী এবং সুদীপ মুখোপাধ্যায় আর্টিস্ট ফোরামে আসেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে। তাঁদের দাবি তদন্তের জন্য কেন এত মানুষ কাজ হারাবেন? তাঁরা কী করবেন এবার?

প্রসঙ্গত, এদিন রাজা গোস্বামী সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে কাঁদতে কাঁদতে জানান, 'চিরসখা' ধারাবাহিকের এক টেকনিশিয়ান তাঁকে নাকি জানিয়েছেন যে কাজ চলে যাওয়ার পর আত্মহনন ছাড়া আর অন্য কোনও বিকল্প নেই তাঁর কাছে। তারপরই নাকি তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। যদিও রাজা এই ভিডিও পোস্ট করতেই অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে কালকের মিটিংয়ে কেন তিনি এই কথা বললেন না, বা কেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যে তাঁকে দেখা গেল না? জবাবে অভিনেতা বলেন, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দু'জনেই শ্মশানে গিয়েছিলেন, কিন্তু ক্যামেরার সামনে আসেননি। 

অন্যদিকে ভিভান ঘোষ সকাল থেকে একের পর এক পোস্ট করে চলেছেন কাজ চলে যাওয়া নিয়ে। এমনকী তিনি আজকাল ডট ইনের কাছে এও বলেন, "আজকে এই মুহূর্তে তো কাজ বন্ধ। আমরা সকলেই রাহুলদার মৃত্যুতে কষ্টে আছি। আমরা চাই যাঁর গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটেছে তার শাস্তি হোক। তদন্ত হোক। টলিউডে স্ট্রাইক হয়েছিল। সব সিরিয়াল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেগুলো আবার শুরু হল। একটা সিরিয়ালে তো অনেক মানুষ কাজ করেন। প্রচুর মানুষের পেট চলে। হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। কর্মসংস্থান চললে ভাল হতো। বাকি তদন্ত তো তদন্তের পথে এগোবে।"

৭ এপ্রিল স্তব্ধ ছিল টলিউড। আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন, ইম্পার ডাকা বৈঠকে হাজির থাকার কথা ছিল চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজকদের। প্রযোজকরা এলেও হাজির ছিল না চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। এই বৈঠকে কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিকেলে ঘোষণা করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান টিভি এবং সিনেমার জন্য আলাদা আলাদা ইন্স্যুরেন্স হবে। এছাড়া ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত যে কোনও প্রতিষ্ঠান ব্যানড। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ওই প্রযোজনা সংস্থার কারও সঙ্গে কোনও কাজ এই মুহূর্ত থেকে করব না। যতক্ষণ না প্রকাশ্যে বা কোর্ট থেকে জানতে পারি আমাদের রাহুল, আপনাদের রাহুল কী করে আমাদের ছেড়ে গেল, কেন চলে ততক্ষণ নয়। আমাদের কারও সঙ্গে লড়াই নেই, ঝগড়া নেই। আমাদের এই পুরো পরিবার ঠিক করেছে পরিবারের (ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স) সঙ্গে কাজ করবে না, যারা আমাদের ঘরের ছেলেকে শেষ করে দিল। প্রকাশ্যে বলতে হবে কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল। সেটা প্রিয়াঙ্কাকে বলতে হবে যে সে মানল। ৯ দিন হয়ে গেল এখনও বলেনি কী ঘটেছিল।"

গত ২৯ মার্চ ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স প্রযোজিত ধারাবাহিক 'ভোলে বাবা পার করেগা' -এর শুটিংয়ে তালসারিতে গিয়েছিল টিম। সেখানেই শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর মৃত্যুর পর একদিকে যেমন শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে তেমনই উক্ত প্রযোজনা সংস্থার তরফে বিভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া বিভিন্ন মন্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করে। একই সঙ্গে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে তাদের যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, সেটার জবাব যথাযথ ছিল না। রাহুলের শেষকৃত্যে দেখা যায়নি প্রযোজনা সংস্থার কাউকে। বরং উল্টে রাহুলের মৃত্যুর সপ্তাহ ঘোরার আগে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের তৃতীয় সিজনের শুট শুরু করে দেওয়া হয় নতুন কাস্ট নিয়ে। এরপরই সকলেই বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ হন প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই ৫ জনের নামে কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানা এবং তালসারিতে অভিযোগ জানানো হয়েছে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও।