চারিদিকে সবুজের সমারোহ। আর তার মধ্যেই চলছে থিয়েটারের চর্চা। নাটকের উৎসব। শুধু, শহর রাজ্যের নয়, অন্য রাজ্যের থেকেও থিয়েটারের কর্মীরা এসে কাজ করছেন। এ যেন এক মেলা। বারাসত কাল্পিক আয়োজিত জাতীয় নাট্যোৎসব নাট্যভাষার দ্বিতীয় পর্যায় যেন এক নতুন দিকের উন্মোচন করল।

চলতে চলতে ইতিমধ্যে ১৫ বছর অতিক্রম করেছে বারাসাত কাল্পিক। দীর্ঘ ১৫ বছরে বারাসাত কাল্পিক নাট্যনির্মাণের পাশাপাশি জাতীয় নাট্যোৎসব করে এসেছে নিয়মিত, 'নাট্যভাষা' নামে। শুধুমাত্র নাট্য উপস্থাপনা নয় রাজ্য এবং ভিন রাজ্যের সঙ্গে সংস্কৃতির আদান-প্রদান এবং জাতীয় স্তরে কী কী কাজ হচ্ছে তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন মূল উদ্দেশ্য। এই মর্মে নাট্যভাষা দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ অন্তরঙ্গ পর্যায় হয়ে গেল গত ১১ জুলাই এবং ১২ জুলাই ২০২৬ কাল্পিকের নিজস্ব স্পেস 'দ্য প্লে হাউজ'।

দু'দিনের এই নাট্য উৎসবে হাজির ছিল বিহার, কলকাতা এবং জেলার নাট্যদল। ১১ জুলাই বিহার থেকে হাজির হয়েছিলেন মন্থন কলা পরিষদ নাট্যদল তাদের নাটক বিখ্যাত নাট্যকার ভিকারি ঠাকুরের 'গোবর ঘিচর', নির্দেশনা প্রমোদ কুমার ত্রিপাঠি, কলকাতা থেকে সন্তোষপুর অনুচিন্তনের 'ভে আঁখে', পদ্য সুমিত্রানন্দন পন্ত এবং নির্দেশনা ডঃ গৌরব দাস। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ১২ জুলাই প্রথম নাটক 'ঝুঁকে পড়া মেঘ', নাটক ও নির্দেশনা মুকুন্দ চক্রবর্তী, নাট্যদল বসিরহাট কিংশুক (উত্তর ২৪ পরগনা) এবং উৎসবে শেষ নাটক বারাসাত কাল্পিকের নিজস্ব প্রযোজনা 'আননোন থটস', নাটক ও নির্দেশনা দেবব্রত ব্যানার্জি।

উৎসবের উদ্বোধনে অতিথি ছিলেন সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কৃত প্রবীর গুহ , তিনি অল্টারনেটিভ লিভিং থিয়েটার নির্দেশকও। জনসংস্কৃতির নির্দেশক সঞ্জয় গাঙ্গুলি, প্রমোদ কুমার ত্রিপাঠি নির্দেশক বিহার এবং সন্তু সাধুকা অভিনেতা, নাট্যকর্মী পশ্চিমবঙ্গ। আনন্দের কথা, উৎসবের প্রতিদিন নাটকের দর্শকের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। এই দর্শকের সহযোগিতা নাট্য ভাষাকে অন্য এক রূপপ্রদান করে। নাট্যভাষার আর্থিক সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারত সরকার।