টলিপাড়ার অতি চেনা মুখ অর্জুন চক্রবর্তী। যদিও মাঝে কিছু বছর তাঁকে সেভাবে বড়পর্দায় দেখা যায়নি। তবে তিনি উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউজের হাত ধরে চলতি মাসেই কামব্যাক করতে চলেছেন বড়পর্দায়। ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে নন্দিতা-শিবপ্রসাদের ছবি 'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড'-এর ঝলক যেখানে অর্জুন চক্রবর্তীর লুক থেকে পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়িয়েছে জনতামহলে।

 

 

তবে এই ছবির আসল ইউএসপি হল কাস্টিং। ছবিতে বর্ষীয়ান অর্জুন চক্রবর্তীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন টলিউডের অন্যতম চর্চিত অভিনেত্রী রাইমা সেন। আর এখানেই লুকিয়ে রয়েছে এক অদ্ভুত ও মিষ্টি সমাপতন। এক সময় রাইমা সেনের মা, অর্থাৎ টলিউডের চিরকালীন ‘ এভারগ্রিন কুইন’ মুনমুন সেন-এর সঙ্গে একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমা ও ধারাবাহিকে জুটি বেঁধে চুটিয়ে অভিনয় করেছিলেন অর্জুন। আর এবার তিনি অন-স্ক্রিন রোম্যান্স করলেন মেয়ের সঙ্গে! অর্থাৎ মা ও মেয়ে— দুই প্রজন্মকেই নিজের হিরোইন হিসেবে পাওয়ার এক বিরল রেকর্ডের সাক্ষী থাকলেন অর্জুন।সেই প্রসঙ্গে নিজের মনের কথা স্বল্প পরিসরেই সমাজমাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন তিনি। অর্জুন লিখলেন,

“এনার মা আমার নায়িকা ছিলেন (বহু ছবিতে) এখন ইনি আমার নায়িকা!
দু প্রজন্মের সাথে হাঁটা!
আমি নিজেকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ মনে করি।
রাইমার সঙ্গে কাজ করে খুব ভালো লেগেছে।
ভীষণ সরল ও খোলা মনের মানুষ, অন্তরে কোনো প্যাঁচ নেই।
ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড ছবিতে আমরা দুজনেই এক সাথে অভিনয় করেছি।”

(পোস্টের বানান অপরিবর্তিত রাখা হল) 

তবে এখানেই শেষ নয়। মা ও মেয়ের মধ্যে অন-স্ক্রিন অভিনয়ে কে কার চেয়ে এগিয়ে? এই নিয়ে ‘আজকাল ডট ইন’-এর কাছে খোলামেলা আড্ডা দিলেন অর্জুন চক্রবর্তী। কোনো কূটনৈতিক জবাব না দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় অভিনেতা বলেন, “দেখুন, তুলনা ঠিক করব না। ওভাবে হয় না। মুনমুনের সঙ্গে তো বটেই, রাইমার সঙ্গেও কাজ করে ভারি আনন্দ পেয়েছি। নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলতে পারি, অন-ক্যামেরা ইন্টেন্সিটি বেশি রাইমার। অর্থাৎ প্রতিটি ভীষণ মনোযোগ ও তীব্র আবেগ দিয়ে চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করেন। আর মুনমুন তাঁর পিক সময়ে যেমন সুন্দর ছিল, তা যাঁরাই দেখেছেন তাঁরাই জানেন। ক্যামেরার সামনে এসে দাঁড়ালেই চারপাশটা আলো হয়ে যেত...একটা সফ্ট বিউটি। ভীষণ সুন্দরী ছিল, মুনমুন। তাই স্ক্রিন-প্রেজেন্সে মুনমুন অনেকের থেকে এগিয়ে। মানুষ হিসেবে মায়ের মতোই মেয়েও উদার। ওরকম লিগ্যাসি থাকা সত্বেও মাটিতে পা রেখে চলে দু'জনেই। সবার সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলা।  বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা এবং এতটুকুও পরোয়া না করে আনফিল্টার্ড কথাবার্তা, পলিটিক্যালি আনকারেক্ট ... কোনও প্যাঁচ নেই মনে...” বলতে বলতে হেসে ওঠেন অর্জুন।  

 

 

এরপর ফের বলে ওঠেন, “শুটিং চলাকালীন আমাকে কী বলে ডাকবে, তাই নিয়ে ভীষণ কনফিউজড ছিল রাইমা। কখনও ডাকত 'অর্জুনদা' কখনও বা অর্জুন আঙ্কল। এরপর একদিন শুটিং সেট থেকে ওর মা’কে ফোনে ভিডিও কল করে ডাকল আমাকে। গেলাম। একপ্রস্থ হাসি-আড্ডার পর মুনমুন বলল –‘একটু মানিয়ে নিও, রাইমাকে গাইড করো...’ এইসব আর কী। আমি তো শুনেই হেসে উড়িয়ে দিয়েছি। এত ভাল অভিনেত্রী তাঁর আবার গাইডেন্স দরকার হয় নাকি? তাছাড়া  নন্দিতা-শিবু দু’জনেই এত দক্ষ পরিচালক যে প্রতিটি অভিনেতার থেকে ঠিক সেরাটা বের করে নিতে পারে।”