আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পরেও বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারলেন না নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর স্ত্রী দীপা সেন। বুথ থেকেই বাড়ি ফিরতে হল তাঁদের।
বৃহস্পতিবার বোলপুরের একটি বুথে ভোট দিতে গিয়েছিলেন প্রৌঢ় দম্পতি। কিন্তু সেখানে ভোট দিতে ঢুকলে আধিকারিক জানান, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই। ফলে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না।
তখন তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অংশটি দেখান। তখন ওই আধিকারিকের তরফে সুপ্রিম নির্দেশের মুদ্রিত সংস্করণ চাওয়া হয়। কিন্তু সেটা করার পরেও ভোটদানে বাধা দেওয়া হয় প্রৌঢ় দম্পতিকে।
জানা যায়, ওই দম্পতিকে নির্দেশ দেওয়া হয় সিউড়িতে জেলাশাসকের দপ্তর থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে আসতে হবে, তারপরেই ভোট দিতে পারবেন তাঁরা। তীব্র গরমে তাঁরা আর সিউড়ি যাওয়ার ধকল নিতে চাননি। ভোট না দিয়েই বুথ থেকে বাড়ি চলে আসেন প্রৌঢ় দম্পতি।
উল্লেখ্য, ভারতের সংবিধান অলংকরণের শিল্পী নন্দলাল বসুর পরিবারের সদস্যের নাম বাদ পড়ে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা থেকে। তারপরে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টেও ডিলিটেড আসায় তাঁর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন দ্বারস্থ হন সুপ্রিম কোর্টের।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনকে বিশেষ নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। এদিন শীর্ষ আদালতে প্রবীণ আইনজীবী জয়দীপ গুপ্তা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চকে গোটা পরিস্থিতির কথা জানান।
আদালত আবেদনকারীকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি দেয়। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, এই নিষ্পত্তিতে যেন পূর্ণ সহযোগিতা করে আপিল ট্রাইব্যুনাল।
পাশাপাশি, যেন যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার নিষ্পত্তি করা হয়। এই ঘটনার পর সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সুপ্রবুদ্ধ সেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি নতুন ভোটার তালিকায় নিজের নাম ‘ডিলিটেড’ দেখে বিস্মিত। কেন এমন হল তা জানেন না।
তাঁর কথায়, তিনি তো জানেন তিনি এখানকার বাসিন্দা। তাহলে তাঁকে বাদ দেওয়া হল কেন? এর জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই দিতে পারবেন। তিনি আরও জানান, তাঁর বয়সের কারণে নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক কয়েকজনকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে এসে নথি যাচাই করে গিয়েছিলেন।
তিনি ১৯৫৪ সালের ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেট দেখিয়েছেন। দীর্ঘ ৩২ বছর দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন-এ চাকরি করার তথ্যও দিয়েছেন, তবুও নাম বাদ পড়েছে।
















