আজকাল ওয়েবডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সম্প্রতি ভারতের কিছু ব্যবহারকারীর কাছে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে জন্মতারিখ যোগ করার অনুরোধ এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতে কি ভারতে হোয়াটসঅ্যাপে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক হতে চলেছে?


তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপ বা ভারত সরকার—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নিয়মের ঘোষণা করেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সরকারি বা সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করাই শ্রেয়।


কী নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা?
প্রযুক্তি-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশকারী টিপস্টার অভিষেক যাদব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায়, কিছু ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপে জন্মতারিখ যোগ করার জন্য একটি নোটিফিকেশন দেখানো হচ্ছে। ওই বার্তায় উল্লেখ রয়েছে যে, "ভারতে আসন্ন সরকারি নিয়মের" কারণে এই তথ্য চাওয়া হচ্ছে।


এই পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই মনে করছেন, ভারতেও হয়তো কমবয়সি ব্যবহারকারীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নতুন নিয়ম আসতে পারে।
তবে এই দাবির সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপ বা কেন্দ্র সরকার এবিষয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি দেয়নি।


হোয়াটসঅ্যাপ কেন বয়স জানতে চায়?
আসলে হোয়াটসঅ্যাপের জন্য ব্যবহারকারীর বয়স জানা সম্পূর্ণ নতুন বিষয় নয়। সংস্থার অফিসিয়াল সাপোর্ট পেজ অনুযায়ী, অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সময় বা নির্দিষ্ট কিছু ফিচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর বয়স বা জন্মতারিখ জানতে চাওয়া হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বয়স নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হতে পারে।


হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনি নিয়ম মেনে চলার জন্যই এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত পরিষেবা দেওয়া, Meta AI-এর নির্দিষ্ট ফিচার ব্যবহার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে Status ও Channels-এ বিজ্ঞাপন দেখানোর ক্ষেত্রেও এই তথ্য কাজে লাগে।


এছাড়া নিরাপত্তা বৃদ্ধি, গোপনীয়তা রক্ষা, গ্রাহক পরিষেবা উন্নত করা এবং পরিষেবার শর্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রেও বয়স সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে।


সংস্থার দাবি, ব্যবহারকারীর দেওয়া জন্মতারিখ অন্য কোনও ব্যবহারকারী দেখতে পারবেন না। কেউ ১৮ বছর বা সংশ্লিষ্ট দেশের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার নির্ধারিত বয়সে পৌঁছালে তাঁর অ্যাকাউন্টকে সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


ভারতেও কি আসতে পারে নতুন নিয়ম?
এই ঘটনার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, ভারতও কি অস্ট্রেলিয়া বা যুক্তরাজ্যের মতো বয়সভিত্তিক অনলাইন নিরাপত্তা আইন আনতে পারে?


অস্ট্রেলিয়ায় ইতিমধ্যেই ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য Facebook, Instagram, TikTok, Snapchat, X, Reddit এবং YouTube-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে। যদিও WhatsApp সেই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রয়েছে।


অন্যদিকে যুক্তরাজ্যও কিছু অনলাইন পরিষেবায় বয়স যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করেছে।
যদি ভবিষ্যতে ভারতেও একই ধরনের নিয়ম কার্যকর হয়, তাহলে WhatsApp-এর পাশাপাশি Telegram, Signal, Instagram এবং Snapchat-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলিকেও ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করতে হতে পারে।


তবে আপাতত বিষয়টি শুধুই জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত নীতি পরিবর্তন হিসেবে ধরা উচিত নয়। ব্যবহারকারীদের তাই বিভ্রান্ত না হয়ে শুধুমাত্র সরকারি বা সংস্থার অফিসিয়াল তথ্যের ওপরই নির্ভর করার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

&t=7s