আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করলে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পেলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে ভারতের অর্থনীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা দেশের আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, শিল্প উৎপাদন এবং কর্পোরেট মুনাফার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম নিম্নমুখী থাকলে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে কয়েকটি নির্দিষ্ট খাত সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায় বিমান পরিবহণ শিল্প। বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন ব্যয়ের একটি বড় অংশই বিমান জ্বালানির জন্য খরচ হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে এর দামও সাধারণত হ্রাস পায়। এর ফলে বিমান সংস্থাগুলির খরচ কমে, লাভের পরিমাণ বাড়ে এবং যাত্রীদের জন্য ভাড়াও তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক রাখা সম্ভব হয়।
অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলিও তেলের দাম স্থিতিশীল বা কম থাকলে সুবিধা পেতে পারে। কাঁচা তেলের দামের অস্থিরতা কমলে তাদের ইনভেন্টরি ক্ষতির আশঙ্কা হ্রাস পায় এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা আরও সহজ হয়। ফলে আর্থিক ফলাফলেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।
পেন্ট শিল্পও তেলের দামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পেন্ট তৈরির বহু কাঁচামালই পেট্রোকেমিক্যাল-ভিত্তিক। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং সংস্থাগুলির লাভের মার্জিন বাড়তে পারে।
একইভাবে টায়ার শিল্পেও কাঁচামালের একটি বড় অংশ তেল-নির্ভর। উৎপাদন ব্যয় কমার ফলে টায়ার নির্মাতারা বাড়তি মুনাফা অর্জনের সুযোগ পান। পাশাপাশি অটোমোবাইল শিল্পের চাহিদা বাড়লে টায়ারের বিক্রিও বৃদ্ধি পায়।
অটোমোবাইল খাতও তেলের দাম কমার সুফল পায়। জ্বালানির খরচ কমে গেলে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ে। একই সঙ্গে গাড়ি কেনার আগ্রহও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির বিক্রি বাড়াতে সাহায্য করে।
লজিস্টিক্স ও পরিবহণ শিল্পের ক্ষেত্রেও জ্বালানির খরচ অন্যতম বড় ব্যয়। ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম কমলে পরিবহণ ব্যয় হ্রাস পায়। এর ফলে ই-কমার্স, পণ্য পরিবহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির লাভের সম্ভাবনা বাড়ে।
এছাড়া সুদের হারের প্রতি সংবেদনশীল আর্থিক খাতও লাভবান হতে পারে। তেলের দাম কমলে মূল্যস্ফীতির চাপ হ্রাস পায়। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা ব্যাংক, হাউজিং ফাইন্যান্স, এনবিএফসি এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণ ও ব্যবসায়িক বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম কমা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা হ্রাস পাওয়া ভারতের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি বিষয়ের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক অবস্থা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির দিকও বিবেচনা করা উচিত। সঠিক খাত নির্বাচন করতে পারলে এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে ভাল রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।














