আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনলাইন শপিংয়ে পছন্দ না হলে রিটার্ন—এটাই বহু ক্রেতার স্বাভাবিক অভ্যাস। কিন্তু সেই অভ্যাসই এখন সমস্যা ডেকে আনতে পারে। অ্যামাজন সম্প্রতি কিছু গ্রাহককে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিতে শুরু করেছে যে অতিরিক্ত রিটার্ন, ঘনঘন অর্ডার বাতিল বা রিফান্ডের অপব্যবহার করলে তাদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হতে পারে। রিটার্ন প্রসেস শুরু করার সময়ই এই বার্তা দেখা যাচ্ছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে—কোম্পানি এখন আগের চেয়ে অনেক কঠোরভাবে নিয়ম প্রয়োগ করছে।
অ্যামাজনের মতে, একক কোনও রিটার্ন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে একজন ব্যবহারকারীর কেনাকাটার আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়। যদি দেখা যায় কেউ নিয়মিত অনেক পণ্য অর্ডার করে পরে বেশিরভাগই ফেরত দিচ্ছেন, শিপমেন্টের পর অর্ডার বাতিল করছেন, দরজায় ডেলিভারি প্রত্যাখ্যান করছেন, বা ‘নন-রিটার্নেবল’ পণ্যের ক্ষেত্রেও রিফান্ড চাইছেন—তাহলে সেই অ্যাকাউন্ট নজরে চলে আসে।
বিশেষ করে একই পণ্যের একাধিক ভ্যারিয়েন্ট অর্ডার করে অধিকাংশ ফেরত দেওয়ার প্রবণতাও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে অ্যামাজন। এমনকি “আইটেম আর দরকার নেই” বা “মত বদলেছে” ধরনের কারণ বারবার দিলে সেটিও সন্দেহজনক হিসেবে ধরা হতে পারে।
ই-কমার্স সংস্থাগুলোর জন্য রিটার্ন একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। প্রতিটি রিটার্নে পরিবহণ খরচ, মান যাচাই, পুনরায় প্যাকেজিং, আবার বিক্রির ক্ষতি বা কখনও সরাসরি বাতিল করতে হয়। ফলে অপব্যবহার বাড়লে কোম্পানির পাশাপাশি বিক্রেতারাও ক্ষতির মুখে পড়েন। এই কারণেই অ্যামাজন এখন রিটার্নকে ‘অভ্যাস’ নয়, বরং ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে রাখতে চাইছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সতর্কবার্তাটি অনেক সময় রিটার্নের কারণ বাছাই করার আগেই দেখানো হচ্ছে। অর্থাৎ, এটি বর্তমান অর্ডারের জন্য নয়, বরং আপনার অতীতের আচরণের ভিত্তিতেই দেওয়া হচ্ছে।
অ্যাকাউন্ট ব্লক হলে কী হতে পারে?
যদি সতর্কবার্তার পরেও একই আচরণ চলতে থাকে, তাহলে অ্যামাজন প্রথমে রিটার্ন বা রিফান্ডের সুবিধা সীমিত করতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে পুরো অ্যাকাউন্ট ব্লকও করা হতে পারে। এতে অর্ডার হিস্ট্রি, রিফান্ড, অ্যামাজন পে ব্যালেন্স, গিফট কার্ড এবং প্রাইম, মিউজিকের মতো পরিষেবা—সবকিছুর অ্যাক্সেস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্লক হওয়া অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করাও কঠিন।
কীভাবে ঝুঁকি এড়াবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনীয় রিটার্ন কমানোই সবচেয়ে ভালো উপায়। কেনার আগে প্রোডাক্টের বিবরণ, সাইজ, স্পেসিফিকেশন ও রিটার্ন পলিসি ভালো করে দেখে নেওয়া উচিত। ‘নন-রিটার্নেবল’ পণ্যের ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক থাকুন। পণ্য ত্রুটিপূর্ণ বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরাসরি রিফান্ডের বদলে রিপ্লেসমেন্ট বা এক্সচেঞ্জ বেছে নেওয়াই ভালো।
সব মিলিয়ে বার্তাটা স্পষ্ট—অ্যামাজন এখন রিটার্নের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিচ্ছে। তাই যারা নিয়মিত অনলাইন শপিং করেন, তাঁদের কেনাকাটায় আরও সচেতন ও পরিকল্পিত হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। নাহলে একদিন হঠাৎ করেই প্রিয় অ্যাকাউন্টটি লক হয়ে যেতে পারে।
