আজকাল ওয়েবডেস্ক: শেয়ার বাজারের অস্থিরতা সরাসরি সামলানোর জটিলতা এড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ গড়ে তোলার একটি জনপ্রিয় উপায় হয়ে উঠেছে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ। বিভিন্ন ধরণের মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ইক্যুইটি এবং হাইব্রিড ফান্ডগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয়।
নীচে ১০ বছরের মেয়াদে ইক্যুইটি ফান্ড এবং হাইব্রিড ফান্ডে ৭ লক্ষ টাকা এককালীন বিনিয়োগ করলে তা কীভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, তার একটি তুলনা দেওয়া হল।
ইক্যুইটি ফান্ড কী? এমন এক ধরণের মিউচুয়াল ফান্ড স্কিম যা মূলত শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার বা ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করে। এই ফান্ডগুলো একাধিক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এবং দীর্ঘমেয়াদে মূলধনের মূল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরণের শেয়ারের একটি বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিওতে সেই অর্থ বিনিয়োগ করে।
যেহেতু এগুলোর বিনিয়োগের বড় অংশই শেয়ার বা ইক্যুইটিতে থাকে, তাই এই ফান্ডগুলোতে বাজারের ঝুঁকি ও অস্থিরতা বেশি থাকে। তবে ডেট (ঋণপত্র-ভিত্তিক) এবং হাইব্রিড ফান্ডের তুলনায় এগুলোতে দীর্ঘমেয়াদে অধিক মুনাফা বা রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।
হাইব্রিড ফান্ড কী? হাইব্রিড মিউচুয়াল ফান্ডগুলো ইক্যুইটি এবং ডেট ইনস্ট্রুমেন্ট বা ঋণপত্রের সমন্বয়ে বিনিয়োগ করে। একাধিক অ্যাসেট ক্লাস বা সম্পদ শ্রেণিতে (যেমন শেয়ার (ইক্যুইটি), বন্ড (ফিক্সড ইনকাম বা নির্দিষ্ট আয়ের উৎস) বা রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টের সমন্বয়ে) বিনিয়োগ ছড়িয়ে দিয়ে এই স্কিমগুলো ঝুঁকি ও মুনাফার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে।
যারা বিশুদ্ধ ইক্যুইটি ফান্ডের তুলনায় কম ঝুঁকি নিতে চান, অথচ প্রথাগত ফিক্সড-ইনকাম বিনিয়োগের চেয়ে ভাল মুনাফা প্রত্যাশা করেন, তাদের জন্য এই ধরণের ফান্ড সাধারণত উপযুক্ত।
ইক্যুইটি ফান্ড বনাম হাইব্রিড ফান্ড: পার্থক্য কোথায়?
ইক্যুইটি ফান্ড: মূলত শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে। এগুলোতে অস্থিরতা (দর ওঠানামা) বেশি থাকে, তবে ৭-১০ বছর বা তার বেশি মেয়াদে সম্পদ বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সম্ভাবনা থাকে। এগুলোতে সাধারণত বার্ষিক গড়ে প্রায় ১২ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়।
হাইব্রিড ফান্ড: এগুলো ইক্যুইটি (শেয়ার) এবং ডেট (বন্ড ও ফিক্সড-ইনকাম সিকিউরিটিজ)-এর সংমিশ্রণ ঘটায়। এগুলো একটি নিরাপদ মধ্যপন্থা হিসেবে কাজ করে। পোর্টফোলিও-র ঝুঁকি কমায় এবং বাজারের বড় পতনের সময় লোকসান সীমিত রাখে। বিনিয়োগের ধরণ বা মিশ্রণের ওপর ভিত্তি করে (যেমন—অ্যাগ্রেসিভ বা আক্রমণাত্মক বনাম কনজারভেটিভ বা রক্ষণশীল) এগুলোতে সাধারণত ১০ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়।
সম্পদ বা তহবিলের তুলনা:
এককালীন ৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ এবং ১০ বছরের বিনিয়োগ সময়কাল বিবেচনা করলে:
ইক্যুইটি ফান্ড
বিনিয়োগের পরিমাণ: ৭ লক্ষ টাকা (এককালীন)
সময়কাল: ১০ বছর
সুদের হার: বার্ষিক ১২ শতাংশ
প্রত্যাশিত আয়: ১৪.৭৪ লক্ষ টাকা
চূড়ান্ত তহবিল: ২১.৭৪ লক্ষ টাকা
হাইব্রিড ফান্ড
বিনিয়োগের পরিমাণ: ৭ লক্ষ টাকা (এককালীন)
সময়কাল: ১০ বছর
সুদের হার: বার্ষিক ১০ শতাংশ
প্রত্যাশিত আয়: ১১.১৫ লক্ষ টাকা
চূড়ান্ত তহবিল: ১৮.১৫ লক্ষ টাকা
কোন বিকল্পটি বেশি সম্পদ গড়ে তোলে?
উপরোক্ত হিসাব অনুযায়ী, ১০ বছর পর একটি ইক্যুইটি ফান্ড থেকে প্রায় ২১.৭৪ লক্ষ টাকার তহবিল গড়ে উঠবে, যেখানে হাইব্রিড ফান্ডের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ হবে ১৮.১৫ লক্ষ টাকা। প্রায় ৩.৬ লক্ষ টাকার এই পার্থক্যটি দীর্ঘমেয়াদে ইক্যুইটি-ভিত্তিক বিনিয়োগের অধিক মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনাই তুলে ধরে।
যদিও বিনিয়োগকারীদের মনে রাখা উচিত যে, অধিক মুনাফার সঙ্গে অধিক ঝুঁকিও জড়িত থাকে। দীর্ঘমেয়াদে ইক্যুইটি ফান্ড হয়তো বেশি সম্পদ গড়ে দিতে পারে, তবে যারা বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চান, তাদের জন্য হাইব্রিড ফান্ড একটি ভাল বিকল্প হতে পারে।















