আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশনের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। কমিশন ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সফর শুরু করেছে এবং কর্মচারী সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন, পেনশনভোগী সংগঠন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে। নতুন বেতন কাঠামো, মহার্ঘ ভাতা, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সুবিধা নিয়ে মতামত সংগ্রহ করাই এই বৈঠকগুলির মূল উদ্দেশ্য।
প্রতি ১০ বছর অন্তর গঠিত হওয়া বেতন কমিশনের সুপারিশের উপর নির্ভর করে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা নির্ধারিত হয়। অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি প্রকাশিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগী, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও রয়েছেন, উপকৃত হবেন।
কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার পঙ্কজ জৈন এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও আইআইএম আহমেদাবাদের অধ্যাপক পুলক ঘোষ।
কমিশন বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে স্মারকলিপি জমা নেওয়ার সময়সীমা ১৫ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির কাছ থেকে অনলাইন তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত রাখা হয়েছে। এই তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের বেতন কাঠামো, ভাতা এবং পেনশন সংক্রান্ত সুপারিশ তৈরি করা হবে।
এপ্রিল, মে ও জুন মাসে একাধিক রাজ্যে বৈঠক করার পর জুলাই মাসেও কমিশনের কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে। আগামী ৬ ও ৭ জুলাই ওড়িশার ভুবনেশ্বরে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। এরপর ৯ ও ১০ জুলাই কমিশনের প্রতিনিধিরা কলকাতায় আসবেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে এখানেও আলোচনা হবে। যদিও এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য সময়সীমা ১৫ জুনেই শেষ হয়েছে।
এদিকে কমিশন চুক্তিভিত্তিক কনসালট্যান্ট নিয়োগের জন্যও আবেদন আহ্বান করেছে। মোট ২০টি পদে এক বছরের জন্য অথবা কমিশনের কার্যকালের মেয়াদ পর্যন্ত নিয়োগ করা হবে। বিভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রার্থীদের জন্য এই সুযোগ রাখা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিশন গঠনের প্রায় ১৮ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশের রীতি রয়েছে। সেই হিসেবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের জাতীয় সভাপতি ড. মনজিত সিং প্যাটেলের মতে, আগামী অর্থবর্ষের শুরুতে অর্থাৎ ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসেও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে।
তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রকাশের পর তা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। ফলে ২০২৭ সালে সুপারিশ প্রকাশিত হলেও নতুন বেতন ও ভাতার সম্পূর্ণ সুবিধা কর্মচারীরা ২০২৯ বা ২০৩০ সালের আগে হাতে নাও পেতে পারেন। তাই অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশের অপেক্ষায় এখন লাখ লাখ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী।














