আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার আবহে এবার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল হুগলির চুঁচুড়ায়। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের হুগলি জেলা সভাপতি অসিত মজুমদারের বাড়িতে এসে তাঁকে সতর্ক করে গেলেন এক রহস্যময় ব্যক্তি। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, অসিত মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত একটি ফাইল নাকি দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন বিধায়ককে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। নিজের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি সিবিআই অফিসে কাজ করেন। যদিও নাম, ফোন নম্বর বা অন্য কোনও পরিচয় দিতে রাজি হননি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চাঞ্চল্য।
জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব আরও মজবুত করতে অসিত মজুমদারের কাঁধে হুগলি জেলার সভাপতির দায়িত্ব তুলে দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতেই গত ২৭ জুন প্রথমবার তাঁর বাড়িতে হাজির হন ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি।

অসিত মজুমদারের দাবি, প্রথমবার দেখা করতে এসে ওই ব্যক্তি সরাসরি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ফাইল দিল্লিতে যাচ্ছে এবং তাঁকে দ্রুত সিবিআইয়ের ডিরেক্টর ও ডেপুটি ডিরেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এমনকী তিনি অসিতকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন। কিন্তু অসিত তখন জানান, তিনি এখনই কোথাও যেতে পারবেন না। তখনই ওই ব্যক্তি তাঁকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রাক্তন বিধায়ক জানান, তিনি ওই ব্যক্তির নাম ও ফোন নম্বর জানতে চাইলে স্পষ্টভাবে তা দিতে অস্বীকার করেন। সঙ্গেই বলেন, “আপনি বিষয়টা নিয়ে ভাবুন, আমি আবার আসব।” সেই মতো এদিন সকালেই ফের অসিতের বাড়িতে হাজির হন তিনি। আবারও জানতে চান, দিল্লিতে যোগাযোগ করা হয়েছে কি না। অসিত যখন তাঁর পরিচয় সম্পর্কে আরও জানতে চান, তখন ওই ব্যক্তি শুধু বলেন, তিনি সিবিআই অফিসে কাজ করেন। এরপর আর কোনও কথা না বাড়িয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
এই ঘটনার পর প্রাক্তন বিধায়ক প্রশ্ন তুলেছেন, এর পিছনে কারা রয়েছে। তাঁর কথায়, “কেউ না কেউ নিশ্চয়ই করাচ্ছে। সত্যিই যদি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কিছু করতে চায়, তাহলে নির্দিষ্ট মামলা থাকবে, নোটিস থাকবে, আমাকে ডাকা হবে। আমি আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। আমি পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নই।”
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কার্যকলাপ এবং জেলার সংগঠন শক্তিশালী হওয়ার কারণেই কেউ তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, সম্প্রতি জেলা সভাপতি হওয়ার পর দলের সভায় ব্যাপক জনসমাগম হয়েছে। সেই সাফল্য দেখেই হিংসা বা প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে কেউ এই ধরনের পদক্ষেপ করে থাকতে পারে।
যদিও ঘটনায় আতঙ্কিত নন বলে জানিয়েছেন অসিত মজুমদার। তাঁর মতে, এ ব্যক্তি সম্ভবত ভুয়ো পরিচয় দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করেছে। তবুও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি চুঁচুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই ব্যক্তির ছবি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চন্দননগর পুলিশ কমিশনারের কাছেও নিরাপত্তারক্ষী চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
অসিত মজুমদার জানান, বিধায়ক থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে তিনজন নিরাপত্তারক্ষী থাকতেন। কিন্তু নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর সেই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়। এই ঘটনার পর নতুন করে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রহস্যময় ওই ব্যক্তি আসলে কে, তাঁর উদ্দেশ্য কী— তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।














