আজকাল ওয়েবডেস্ক: নবাব নগরী মুর্শিদাবাদের মাটির নিচে আজও ঘুমিয়ে আছে ইতিহাস। সোমবার রাতে সেই ইতিহাসই উঁকি দিল বহরমপুর শহরের কাদাই এলাকায়। রাস্তা চওড়া করার কাজ চলাকালীন মাটির তলা থেকে উদ্ধার হল নবাবী আমলের বিশালাকৃতি কামান। দৈর্ঘ্যে প্রায় ৭ ফুট। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা শহরে। কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায় ঘটনাস্থলে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে কাদাই এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করছিলেন নির্মাণ শ্রমিকরা। জেসিবি দিয়ে মাটি কাটার সময়ই লোহার মতো শক্ত কিছুতে ধাক্কা লাগে। সন্দেহ হওয়ায় সাবধানে মাটি সরাতেই বেরিয়ে আসে বিশাল কামান। খবর পেয়ে ছুটে আসে বহরমপুর থানার পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অনুমান, কামানটি মুর্শিদাবাদের নবাবী আমলের। বাংলার সামরিক শক্তির অন্যতম নিদর্শন।


উদ্ধার হওয়া কামানটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ ফুট। লোহার তৈরি ভারী কামানটি দীর্ঘদিন মাটির নিচে থাকায় জং ধরেছে। তবে গঠন এখনও অটুট। 


অষ্টাদশ শতকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা বা তাঁর পরবর্তী সময়ে মুর্শিদাবাদ ছিল বাংলার রাজধানী। সেই সময় নবাবী সেনাবাহিনীতে বহু কামান ব্যবহৃত হত। পলাশীর যুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপনিবেশিক সংঘাতে এই ধরনের কামান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।


বহরমপুর পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত কামানটিকে সুরক্ষিত রাখতে খাগড়া ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে খবর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এসে কামানটির সময়কাল, নির্মাণশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব খতিয়ে দেখবেন। তারপরই সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।


মুর্শিদাবাদের ইতিহাস ঘাটলে নবাবী আমলের সঙ্গে বহরমপুরের ঘনিষ্ঠতা স্পষ্টত উঠে আসে। নবাব আলীবর্দী খাঁ ও সিরাজদ্দৌলার আমলে এখানে সামরিক ঘাঁটি ছিল। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে এই মুর্শিদাবাদের মাটিতেই । শোনা যায়, এক সময় ঢাকা, পাটনা এবং মুর্শিদাবাদ ছিল কামান তৈরির কারখানা। মুর্শিদাবাদের কাটরা মসজিদের কাছে তোপখানায় রাখা ঢাকার বিখ্যাত কারিগর জনার্দন কর্মকারের তৈরী'জাহানকোষা' কামান বা হাজারদুয়ারির সামনে 'বাচ্ছাওয়ালি তোপ', এখনও পর্যটকদের নজর কাড়ে । 

 


মুর্শিদাবাদের স্থানীয় ইতিহাস গবেষকদের দাবি, সদ্য খুঁজে পাওয়া কামানটি শুধু একটি ধাতুর টুকরো নয় বরং বাংলার গৌরবময় সামরিক ইতিহাস ও উপনিবেশিক সংঘাতের জীবন্ত সাক্ষী।