আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে শুধুমাত্র বাংলায় ভাষায় কথা বলার অপরাধে ঝাড়খন্ডে 'খুন' মুর্শিদাবাদের এক যুবক, অভিযোগ তেমনটাই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে গোটা জেলা জুড়ে।
মৃত যুবকের নাম আলাউদ্দিন শেখ (৩০)। তাঁর বাড়ি বেলডাঙা থানার অন্তর্গত সুজাপুর-তাতলাপাড়া গ্রামে। জানা গিয়েছে, ওই যুবক ঝাড়খণ্ডে কর্মরত ছিলেন। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা হওয়া এবং বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে ঝাড়খণ্ডে ফেরিওলার কাজে কর্মরত যুবককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বেলডাঙার সুজাপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভ, পথ অবরোধের কারণে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী প্রধান সড়কে ব্যপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
সেই সঙ্গে বেলডাঙা স্টেশনে রেল অবরোধও করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। ফলে সকাল থেকেই শিয়ালদহ -লালগোলা শাখার ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বেলডাঙা থানার পুলিশ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও অবরোধ তুলতে অস্বীকার করেছেন স্থানীয়রা ।
এর আগে, মুর্শিদাবাদ থেকে চেন্নাইতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে এক যুবকের 'খুন' হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত ওই যুবকের নাম আমাই মাঝি (২৮)। বাড়ি মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার হাড়োয়া পঞ্চায়েতের গাম্ভীরা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গম্ভীরা গ্রামের বাসিন্দা আমাই ২০২৫ সালে দুর্গাপুজোর সময় চেন্নাই-এর কাছে তাম্বারাম নামে একটি এলাকায় বহুতল নির্মাণের কাজ করতে গিয়েছিলেন। সোমবার বিকেলে সেখানেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
মৃত ওই যুবকের বাড়িতে বৃদ্ধ মা এবং স্ত্রী ছাড়াও তিন নাবালক সন্তান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি ছিলেন আমাই। চেন্নাইতে কাজ করতে গিয়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় অথৈ জলে পড়েছে গোটা পরিবার। চেন্নাই থেকে তাঁর দেহ ফিরিয়ে নিয়ে আসার আর্থিক সঙ্গতি পরিবারের না থাকায় গোটা গ্রাম মঙ্গলবার সকাল থেকে একত্রিত হয়ে চাঁদা তুলে অর্থ জোগাড় করে চেন্নাই থেকে তাঁর দেহ ফিরিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ আমাইকে চেন্নাইতে খুন করা হয়েছে। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হবে তারপর মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে আনা হবে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ওড়িশার সম্বলপুরে বাংলাদেশি সন্দেহে সুতি থানার চক বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েলা রানা নামে বছর একুশের এক পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন করে কিছু দুষ্কৃতী। সেই ঘটনার পর ওড়িশা থেকে পালিয়ে আসতে গিয়ে সুতি থানা এলাকারই খিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ শেখ নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। সুতি থানা এলাকার আরও এক পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায় জুড়ে।
