মনিরুল হক, কোচবিহার: মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল অন্তত ২০০ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা চলাকালীন স্কুলের মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
কোচবিহারের তুফানগঞ্জের এক নম্বর ব্লকের নাককাটিগাছ হাইস্কুলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বেলার দিকে নাককাটিগাছ হাইস্কুলে মিড-ডে মিলের রান্নার কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকা স্কুলের ক্যান্টিনে গ্যাসের পাইপ লিক হতে শুরু করে।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন গ্যাস সিলিন্ডারে লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখায় ঢেকে যায় পুরো সিলিন্ডার। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্কুলের কর্মী ও শিক্ষকরা দ্রুত সিলিন্ডারটি রান্নাঘর থেকে বের করে স্কুল মাঠে নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা স্কুল চত্বর ও আশপাশের এলাকা।
পরীক্ষাকেন্দ্রে বসে থাকা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও ছুটে আসেন স্কুল চত্বরে। ঘটনার পরপরই শিক্ষকরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলা হয়, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই এবং পরীক্ষার উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। শিক্ষকদের আশ্বাসে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। এরপর নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা শুরু হয় এবং পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে বসে।
এই ঘটনার খবর পৌঁছেছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছেও। পর্ষদের আধিকারিকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেন। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে ২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার। পরীক্ষা চলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, সে জন্য রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনে যানজট এড়াতে অতিরিক্ত বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে।
পাশাপাশি হাতির আনাগোনা রয়েছে এমন প্রত্যন্ত এলাকার পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উপর আরও জোর দেওয়ার দাবি উঠেছে।
