আজকাল ওয়েবডেস্ক: এলাকায় দাদাগিরি, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো এবং ক্ষমতার জোরে ঘরবাড়ি বা দোকানপাট দখল করার রাজনীতির দিন শেষ। খড়গপুরের রুপেশ মন্দিরে সম্বর্ধনা সভায় গিয়ে এই ভাষাতেই বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে দিলীপের স্পষ্ট বার্তা, "যদি কেউ আপনাদের ভয় দেখায় বা সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করে, তবে ভয় না পেয়ে সোজা পুলিশের কাছে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান।" একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।

এদিন খড়গপুরের একটি মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, "অনেকে মানুষের ঘরবাড়ি, দোকানপাট লুট করে দখল করে নেতাতন্ত্র চালিয়েছেন বিরোধীরা। আমি আপনাদের বলছি, ক্ষমতা খাটিয়ে কেউ যদি এমনটা করে থাকে, তবে এখনই থানায় গিয়ে এফআইআর করুন। সে কী করে বাড়ির ভাত খায়, সেটা আমি দেখব।"

তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে আরও বলেন, "আমাকে বলার আগে পুলিশকে জানান, লিখিত কমপ্লেন করুন। কারও অধিকার নেই কাউকে ভয় দেখানোর বা সম্পত্তি কব্জা করার।" তৃণমূলের দিকে ইঙ্গিত করে কটাক্ষের সুরে দিলীপ বাবু বলেন, "এই রাজনীতি আমরা চলতে দেব না। যাঁরা এসব করছেন, তাঁদেরও বাড়ির ভাত খেতে দেবেন না। দেখছেন না, প্রাক্তন মন্ত্রী, এমএলএ, পঞ্চায়েত, কাউন্সিলাররা সব ফটাফট শ্বশুরবাড়ি (জেল) যাচ্ছেন! আর খালি এমনি যাচ্ছেন না, রাস্তায় খাওয়াদাওয়া করতে করতে যাচ্ছেন। ডিম-ভাত জিন্দাবাদ! ২১শে জুলাই যারা ডিম খেত, এখন মনে হচ্ছে সারা বছরই তাদের ডিম খেতে হবে। তা-ও আবার কাঁচা ডিম, সেদ্ধ করার সময় নেই!" বাজারে ডিমের দাম বৃদ্ধি নিয়েও চেনা ভঙ্গিতে রসিকতা করতে ছাড়েননি তিনি।

এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিজেপি নেতা অভিযোগ করেন, কিছু পুলিশ অফিসারও এই অন্যায়ের ভাগীদার ছিলেন। তিনি বলেন, "পুলিশ আকাশ থেকে পড়েনি। পুলিশও ভাগ নিয়েছে, এদের সঙ্গে থেকেছে। সেইসব পুলিশ অফিসারদের আমরা সরিয়ে দিচ্ছি। খড়গপুরে মানুষ আর কোনো অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করবে না।"

জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি আশ্বাস দেন, "আপনারা এফআইআর করুন। পুলিশ যদি কাজ না করে, তবে আমাকে জানান। অন্যায়কারী এবং যে এই অন্যায়ে মদত দিচ্ছে। উভয়কেই সমান চোখে দেখা হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।" দিলীপ ঘোষের এই কড়া ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।