আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার ভোররাতে অভিষেক ব্যানার্জির কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে যায় শালবনি থানার পুলিশ। হাজির ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। সূত্রের খবর, অভিষেক ব্যানার্জির পিএ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলার তদন্তেই শনিবার কালীঘাটে পৌঁছয় শালবনি থানার পুলিশ। খবর পেয়ে অভিষেকের বাড়িতে এসে পৌঁছন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিও। তল্লাশি চলে প্রায় ৯০ মিনিট। তবে অভিষেকের বাড়ি থেকে কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়নি শনিবার।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভোর ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত টানা দু’ঘণ্টা অভিষেকের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে ডাকাডাকি করা হয়। কলিং বেলও বাজানো হয়। কিন্তু কেউ দরজা খোলেননি। অভিষেকের পরিবারের তরফে পুলিশকেও কোনও সহযোগিতা করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর পুলিশ দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেয়। শালবনি থানার একটি মামলায় অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে খুঁজতেই কালীঘাটে এসেছিল পুলিশ। সূত্রের খবর, জমি দুর্নীতি মামলায় ধৃত মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জেরা করেই সুমিতের নাম উঠে এসেছে। তাঁর মোবাইলের শেষ ‘টাওয়ার লোকেশন’ও দেখিয়েছে অভিষেকের এই বাড়িতেই। কিন্তু সুমিতকে সেখানে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কিন্তু কে এই সুমিত রায়? দিন কয়েক আগেই ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা তথা অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ানো অভিজিত দাস (ববি) সুমিতকে নিয়ে তুলেছিলেন বিস্ফোরক অভিযোগ। কী লিখেছিলেন তিনি? ফেসবুকে অভিজিত লেখেন, ''২০১৮ একুশে ডিসেম্বর, আমাকে ডায়মন্ডের কপাট হাটে আক্রমণের দুদিন আগে, মেহেবুব, গৌতম অধিকারী, শামীম ও জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বসে ও (সুমিত রায়) প্ল্যান করে এবং নির্দেশ দেয় আমাকে শেষ করার। পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে রাস্তার সিসিটিভি বন্ধ করায় এবং পাঁচ মিনিট দূরে ডায়মন্ড থানা থাকা সত্ত্বেও ওর নির্দেশে, আক্রমণের ৩৫ মিনিট পরে পুলিশ আসে, আক্রমণকারীদের সেফ প্যাসেজ দিয়ে আজকে কারও সাহায্য ছাড়া আমি সিঁড়ি দিয়ে উঠতে পারি না ওর জন্য। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে, ইভিএম-এ আমার নামের উপর সার্জিক্যাল টেপ, ক্যামেরার লেন্সে ভেসলিন, লিপস্টিক, কাদা, ইভিএম মেশিনের উপরে ক্যামেরা লাগানো থেকে শুরু করে, নির্বাচনটাকে প্রহসনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সব প্ল্যানিং ওর। পুলিশের গাড়িতে করে ডায়মন্ড থেকে কালো টাকা নিয়ে যাওয়া এবং নির্বাচনের সময় কালো টাকা নিয়ে আসা সব কিছু কন্ট্রোল করতো সুমিত।''
এখানেই শেষ নয়, 'ববি'র আরও সংযোজন, ''এই জেলার রাজনীতি থেকে আমাকে সরানোরও মূল কান্ডারী এই সুমিত। যখন থেকে কেসের পর কেস, ও আক্রমণ করেও, আমাকে রুখতে পারছে না, ডায়মন্ড জেলা বিজেপির অন্দরের কিছু ব্যক্তিকে বিপুল পরিমাণে টাকা দিয়ে, নিচ থেকে উপর স্তর অবধি, রিউমার ছড়ায় যে ভাইপোর সঙ্গে আমার নেক্সাস আছে, প্রতি মাসে আমাকে দশ লাখ টাকা দেয়। এবং এটা এমন ভাবে ছড়ানো হয়, সেন্ট্রাল আই বি আর অফিসাররা পর্যন্ত বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিল পরে ইনভেস্টিগেশন করে দেখে সর্বৈব মিথ্যে, কিন্তু ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে, আমাকে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।''
এদিন সকাল ৮টার কিছু পরে অভিষেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় পুলিশ। এর কিছু পরে বেরিয়ে যান মমতাও। বাড়ির বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “আমি তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধি নই। আমার পুরো বাড়ির তল্লাশি করা হয়েছে। কিছু পাওয়া গিয়েছে কি না বা কোনও প্রশ্ন থাকলে তদন্তকারী সংস্থাকে গিয়ে প্রশ্ন করুন।” অভিষেকের বাড়িতে পুলিশি তল্লাশির নিন্দা করে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এক্স-এ লিখেছেন, “শনিবার, ১৩ জুন, ভোর ৩টা। কলকাতায় অভিষেক ব্যানার্জির কালীঘাটের বাসভবনে পুলিশ পৌঁছয়। ভোর ৫টায় তালা ভাঙার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে ডাকা হয়। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে ছাদ পর্যন্ত তল্লাশি শুরু হয়। যা ৯০ মিনিট ধরে চলে। ফলাফল? সিজার রিপোর্ট বলছে, কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। কোনও প্রমাণ নেই। কোনও অন্যায় নেই। কিছুই না।”
বৃহস্পতিবার সই জাল-কাণ্ডে ভবানী ভবনে হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক। শুক্রবার ভোটপ্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগের তদন্ত করতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডি। যদিও সেই সময় নিজের বাড়িতে ছিলেন না অভিষেক। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, তৃণমূলনেত্রী মমতার বাড়িতে সেই সময় বৈঠক সারছিলেন অভিষেক।
















