বীরেন ভট্টাচার্য, নয়া দিল্লি: দেশীয় কয়লার ঘাটতি মেটাতে আগামী জুন মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থাগুলিকে কয়লা আমদানি করার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থাগুলির চাহিদার ৬ শতাংশ কয়লা আমদানি করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থাগুলিতে কয়লার ঘাটতি দেখা গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, অক্টোবরের প্রথমার্ধ থেকেই এভাবে কয়লার ঘাটতি এই প্রথম।

বিদ্যৎ মন্ত্রকের তরফে উৎপাদন সংস্থাগুলিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, দেশীয় কয়লার সঙ্গে আমদানি করা কয়লা মেশাতে হবে। একমাত্র এই পদ্ধতিতেই ঘাটতি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব বলে দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের। মোদি সরকারের দাবি, বিদ্যুৎ এর চাহিদা লাগাতার বৃদ্ধি এবং সেই তুলনায় কয়লার জোগান কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ আইনের ১১ নম্বর ধারা কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে, ১৭ গিগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থাগুলিকে তাদের পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। প্রথমে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়, ২০২৩ সালের ফেব্রুারি মাসে। প্রথমে তা বাড়িয়ে জুন এবং পরে ফের বাড়িয়ে অক্টোবর করা হয়। এবার ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এই নীতি কার্যকর রাখার নির্দেশিকা জারি করেছে মোদি সরকার। গত বছরেও একই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছিল। তবে ১০ শতাংশ কয়লা আমদানি করে তা দেশীয় কয়লার সঙ্গে মেশানোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। পরে সেই নিয়ম ছেড়ে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থাগুলির হাতেই। গত জানুয়ারিতে কয়লার মেশানোর হার কমিয়ে ৬ শতাংশ করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর তা আরও কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়। সম্প্রতি ফের তা বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দেশীয় কয়লা এবং সবরকম কয়লার মোট ব্যবহারের ফারাক ছিল ১২ মিলিয়ন টন।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই নির্দেশিকার সমালোচনা করেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিদের স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন, "কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, দেশীয় বাজারে কয়লা উৎপাদন এবং মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ মন্ত্রকের তরফে উৎপাদন সংস্থাগুলিকে কয়লা আমদানি করার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে লাভবান অন্য কেউ নয়, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী মোদির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী। "