আজকাল ওয়েবডেস্ক: কে বলেছে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ বিরক্তিকর হবে? অধিকাংশ ম্যাচ একপেশে হবে? গ্রুপ পর্ব শেষের পথে। তারমধ্যে কয়েকটি অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের সাক্ষী থেকেছে গোটা পৃথিবী। বিশেষ করে গোলকিপারের থেকে। তালিকায় রয়েছে কেপ ভার্দে, কুরাকাও এবং ইরানের কিপার। ভোজিন্হা, ইলয় রুমের পর এবার বিশ্বমঞ্চে নিজেকে মেলে ধরলেন আলিরেজা বেইরানভ্যান্ড। তেকাঠির নীচে অনবদ্য। তাঁর গ্লাভসে আটকে যায় বেলজিয়াম। ইরানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করল ফিফা ক্রমতালিকায় ৯ নম্বরে থাকা দল। এখনও পর্যন্ত কয়েকটি অনবদ্য পারফরম্যান্সের সাক্ষী এবারের বিশ্বকাপ। কিন্তু বাকিদের থেকে ইরানের গোলকিপারের কাহানি পুরো আলাদা। 

বেলজিয়ামের তিন পয়েন্টের লক্ষ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ৬ ফিট ৪ ইঞ্চির গোলকিপার। সাতটি সেভ করে ম্যাচের সেরার পুরস্কার দখল করে নেন। ক্লিনশিট রেখে মাঠ ছাড়েন। কিন্তু বিশ্বফুটবলে তাঁর যাত্রাপথ মোটেই সহজ ছিল না। লোরেস্তান পর্বতে কুর্দি লাক যাযাবর পরিবারে জন্ম আলিরেজার। অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যে ছোটবেলা কাটে। বাবা তাঁর ফুটবল খেলার বিরুদ্ধে ছিলেন। পরিবারের কাছে ফুটবল বড়লোকদের খেলা ছিল। যা তাঁদের আয়ত্তের বাইরে। একজোড়া গ্লাভসে টাকা খরচ করা মানে, টাকা জলে ফেলার সমতুল্য। এই অবস্থায় বড় ঝুঁকি নেন আলিরেজা। যা তাঁর বয়সী যেকোনও ছেলে করার আগে দশবার ভাববে। টাকা ধার নিয়ে, পালিয়ে তেহরানের বাসে চেপে বসেন। ইরানের রাজধানীতে পৌঁছনোর পর ঘর, বিছানা, বন্ধু, পরিচিত কেউই ছিল না তাঁর। মাসের পর মাস স্থানীয় ফুটবল ক্লাবের বাইরে শুয়ে রাত কাটান। খাবারের সন্ধানে রাস্তা ঝার দেওয়া, গাড়ি ধোঁয়া, টায়ার পরিষ্কার করা তো ছিলই। এছাড়াও দিনে ফুটবল খেলার পর, রাতের পর রাত জেগে পিজ্জার দোকানে কাজ করেন। সেই সময় তাঁর শরীরের বিশেষত্ব নজরে পড়ে কোচদের। 

পাহাড়ে বেড়ে ওঠায়, ছোটবেলায় স্থানীয় খেলা 'ডালপারান' খেলে বড় হয়েছেন। যা হল, ভেড়াদের রক্ষা করতে দূর পর্যন্ত ভারী পাথর ছোড়া। এটা করতে করতে তাঁর শরীরের ওপরের অংশ একটি অদ্ভুত আকার নেয়। যা আধুনিক ফুটবলে সচরাচর দেখা যায় না। বর্তমানে গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে দুটো নজির রয়েছে ইরানের গোলকিপারের। ফুটবলে সবচেয়ে বড় থ্রো। ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে এই রেকর্ড করেন আলিরেজা। ২০০.১৪ ফিট, অর্থাৎ ৬১.০০২ মিটার দূরে বল ছোড়েন। এর পাশাপাশি আরও একটি রেকর্ড করেন। ফুটবলের ইতিহাসে দীর্ঘতম ড্রপ কিক। যার মাপ ২৫৫.৯৫ ফিট, যা ৭৮.০১৪ মিটার। ভারতীয় সময় রবিবার মধ্যরাতে তাঁর দস্তানায় আটকে যায় বেলজিয়াম। 

বিশ্বমঞ্চে নিজের থ্রোয়ে নজর কাড়েননি। গোল রুখে সবাইকে চমকে দেন। দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ম্যাচের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে মার্কিন মুলুকে প্রবেশ করার অনুমতি পায় ইরাক। অর্থাৎ, বাকি দলগুলোর মতো প্রাক ম্যাচ প্রস্তুতির সময় নেই। আবার খেলা শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গেই ছাড়তে হবে দেশ। এই পরিস্থিতিতে প্র্যাকটিস, বিশ্রামের তেমন সুযোগ নেই ফুটবলারদের। এমন অবস্থায় ভাল পারফরম্যান্সের আশা করা অন্যায়। তারমধ্যে বেলজিয়ামকে আটকে দেওয়া মিরাকলের থেকে কম নয়। ম্যাচের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের ফুটবলারদের একটাই লক্ষ্য ছিল, বেলজিয়ামকে গোল না করতে দেওয়া। তাতে সফল আলিরেজারা। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখল ইরান।