আজকাল ওয়েবডেস্ক: অ্যাটলান্টায় চেক বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজানো মাত্র ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান টোরি পেনসো। বিশ্বের বৃহত্তর ফুটবল টুর্নামেন্টের সেন্টারস্টেজে একজন মহিলা। ছেলেদের বিশ্বকাপে মহিলা রেফারি। এর আগে একবারের বেশি এমন বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকার সুযোগ পায়নি বিশ্বফুটবল। যার ফলে এই ম্যাচটি শুধুমাত্র আরও একটি গ্রুপ ম্যাচে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। সহকারী রেফারি ব্রুক মায়েও এবং ক্যাথরিন নেসবিটের সঙ্গে দ্বিতীয় মহিলা রেফারি হিসেবে ছেলেদের বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন পেনসো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথমবার এমন ঘটনার সাক্ষী ছিল বিশ্ব। প্রথম মহিলা রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান ফরাসি রেফারি স্টিফানি ফ্রাপার্ট। বাড়তি টাকা কামানোর লক্ষ্যে রেফারিং শুরু করেন পেনসো। পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবেননি। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম এবং দায়বদ্ধতা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যান মার্কিন রেফারি।
ফিফা বিশ্বকাপের ৯০ বছরের ইতিহাসে এর আগে কোনও মহিলা রেফারি ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাননি। কিন্তু এবার বিশ্বকাপের এক সংস্করণে ছ'জন মহিলা রেফারি রয়েছে। এই দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমেরিকান রেফারি পেনসো। তাঁরাও যে কোনও অংশে কম নয়, সেটা প্রমাণ করার জন্য তৈরি। এটাই নারী ক্ষমতায়নের আদর্শ বিজ্ঞাপন। বিশ্বকাপের ম্যাচে ত্রুটিহীন পারফরম্যান্স পেনসোর। সঠিক সময় সঠিক জায়গায় ছিলেন। ছোট ছোট স্প্রিন্ট বুঝিয়ে দেয়, তাঁর ফিটনেস লেভেল কতটা ভাল। টিভিতে দেখে সহজ মনে হলেও, এটা মোটেই সহজ নয়। খুবই কঠিন। বরং, কাউন্টার অ্যাটাকের সময় রেফারির কাজটা তুলনায় সহজ। একই টেম্পোতে কিছুটা দূর পর্যন্ত দৌড়ানো যায়।
মহিলা রেফারিদের জন্য এটা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এই পর্যায়ে পৌঁছতে একটা বড় জায়গা দখল করেছে মহিলা রেফারিদের পেশাদারিত্ব। এর কৃতিত্ব প্রাপ্য ফিফার। হাই ইনটেনসিটি ট্রেনিং, একাধিক ওয়ার্কশপ এবং বেশ কয়েক বছরের মেন্টরশিপে এই জায়গায় পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে। সর্বোপরি মহিলা রেফারিদের প্রতি বিশ্বাস রাখা। ইতিমধ্যেই বিশ্বের সেরা রেফারিদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন পেনসো। মেয়েরা যে সফলভাবে ছেলেদের ম্যাচ পরিচালনা করতে পারে, সেটা প্রমাণ করেছেন ফরাসি রেফারি এবং তাঁর সহকর্মীরা। এবারের বিশ্বকাপে এই প্রথম এবং শেষ মহিলার রেফারির হাতে বাঁশি থাকবে না, আরও ম্যাচ অপেক্ষা করছে।
















