ইংল্যান্ড - ০

ঘানা - ০

আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন মুলুকের বিশ্বকাপ যেমন রেকর্ডের, তেমনই অঘটনের। মঙ্গলবার রাতে বোস্টনে ঘানার কাছে আটকে গেল ইংল্যান্ড। ম্যাচের ফলাফল গোলশূন্য। ৯০ মিনিটে গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হ্যারিকেন, জুড বেলিংহ্যামরা। প্রথমার্ধে তেমন সুযোগ সৃষ্টি না হলেও, ম্যাচের শেষদিকে বেশ কয়েকটি সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজের মাস্টারস্ট্রোকে আটকে গেল থ্রি লায়ন্সরা। রক্ষণ সংগঠন রেখে বাজিমাত করেন ৭১ বছরের কোচ। 

আফ্রিকার দেশের কাছে প্রথম ৪৫ মিনিট আটকে যায় ইংল্যান্ড। বিরতিতে স্কোর গোলশূন্য। প্রথমার্ধে ঘানার রক্ষণের জঙ্গলে তিতিবিরক্ত ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা। বা বলা চলে কার্লোস কুইরোজের স্ট্রাটেজিতে বাজিমাত। পাঁচটি বিশ্বকাপে বিভিন্ন দেশকে কোচিং করিয়েছেন। সেখানে সবে বিশ্বকাপে হাতেখড়ি টমাস তুখেলের। সুতরাং, অভিজ্ঞতার বিচারে ইংল্যান্ডের কোচের থেকে এগিয়ে কার্লোস। প্রথম ৪৫ মিনিটে রক্ষণ সংগঠিত রেখে হ্যারি কেনদের আটকে দেন। খেলা তৈরির জন্য ফাঁকা জমি পায়নি কেন, বেলিংহ্যামরা। কোনও জায়গা ছাড়া হয়নি ইংল্যান্ডের প্লেয়ারদের জন্য। তাতেই সমস্যায় পড়ে টুখেলের দল। প্রথমার্ধে মাত্র ৬টি শট নেন ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকিং লাইন আপ। কিন্তু গোলে রাখতে পারেনি। বক্সের মধ্যে ইংল্যান্ডের কোনও প্লেয়ার বল পেলেই, তাঁকে চার-পাঁচজন ঘিরে ধরে। 

ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ে মার খায় ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে উদ্বোধনী ম্যাচে ৪ গোল করা ইংল্যান্ড, এদিন গোলের মুখ খুলতে পারেনি। মডরিচদের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছিলেন হ্যারি কেন। কিন্তু ভারতীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যে রাতে খুব বেশিবার বল পায়ে দেখা যায়নি ইংল্যান্ডের অধিনায়ককে। ঘানা সেন্ট্রাল করিডোর বন্ধ করে দেওয়ার উইং দিয়ে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে ইংল্যান্ড। কিন্তু ফলপ্রসূ হয়নি। আগের ম্যাচের মতো দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি বুকাও সাকা এবং র‍্যাশফোর্ডকে নামান টুখেল। সেদিন গেমচেঞ্জারের ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু এদিন পারেননি।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে গোলের সেরা সুযোগ পায় ঘানা। মিস করেন ইংল্যান্ডের গোলকিপার পিকফোর্ড। কোনওরকমে বাঁচায় রক্ষণ। ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিট ঘানার রক্ষণকে চেপে ধরে ইংল্যান্ড। পরপর তিনটি সুযোগ নষ্ট। সাকার শট বাঁচায় গোলকিপার। ফিরতি বলে ও'রেইলির শট ক্রসপিসে লাগে। তৃতীয় প্রচেষ্টায় ক্রসপিসের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন হ্যারি কেন। এদিন মোট ১৯টি শট নেয় ইংল্যান্ড। তারমধ্যে মাত্র ৪টি গোলে। দিনটা ইংল্যান্ডের ছিল না। নয়ত গোলের একহাত দূরে দাঁড়িয়ে কেনের এই গোল মিস সচরাচর দেখা যায় না। তবে প্রথম একাদশ বাছাই নিয়ে ভাবতে হবে ইংল্যান্ডের কোচকে। শেষ ১০-১৫ মিনিট যে প্রেসিং ফুটবল খেলল ইংল্যান্ড, প্রথম থেকে এই খেলা খেলতে পারলে রোখা কঠিন হত। নকআউট পর্বে দলের দুই সেরা অস্ত্র সাকা এবং র‍্যাশফোর্ডকে প্রথম একাদশে না রাখলে ভুগতে হতে পারে।