আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরও একটি রূপকথার ম্যাচ। আবার বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল কেপ ভার্দে। স্পেনের পর উরুগুয়ে। সোমবার ভোরে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আটকে গেল মার্সেলো বিয়েলসার দল। ২-২ গোলে শেষ হয় উরুগুয়ে-কেপ ভার্দে ম্যাচ। আবারও ছোট্ট এই দেশের কাছে নৈতিক হার দু'বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। স্পেন ম্যাচ যে নিছকই অঘটন ছিল না, সেটা প্রমাণ করলেন ভোজিন্হারা। এখানেই শেষ নয়, অভিষেক বিশ্বকাপেই নক আউট পর্বের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে মাত্র পাঁচ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে। পরের রাউন্ডে যাওয়ার অনিশ্চিত। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবকে হারাতে পারেনি বিয়েলসার দল। দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গোল পার্থক্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, স্পেন ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে তাঁদের বিশ্বকাপ ভাগ্য। 

এদিকে গ্রুপের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবকে হারাতে পারলেই সরাসরি নকআউট পর্বে চলে যাবে কেপ ভার্দে। ড্র করলেও আশা থাকবে। উরুগুয়ে স্পেনের কাছে হেরে গেলে, ড্র করলেই রাউন্ড অফ ৩২ তে পৌঁছে যাবে বিশ্বকাপের নবাগতরা। এবারের বিশ্বকাপের সেরা আবিষ্কার পশ্চিম আফ্রিকান এই রাষ্ট্রপুঞ্জ। ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের কোচ জানিয়ে দেন, স্বপ্নের খোঁজে বিশ্বকাপে এসেছে তাঁরা। বুবিস্তা বলেন, 'আমরা এখানে লড়াই করে স্বপ্ন সফল করতে এসেছি। আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডের যোগ্যতা অর্জন করতে চাই। আমরা এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েছি, যেখানে আমরা জোর গলায় বলতে পারি, আমরা যোগ্যতা অর্জনের আপ্রাণ চেষ্টা করব।' ম্যাচের ২০ মিনিটে সবাইকে অবাক করে এগিয়ে যায় কেপ ভার্দে। স্পেনের বিরুদ্ধে নব্বই মিনিট লড়াই চালিয়ে গেলেও, গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছতে পারেনি। কিন্তু উরুগুয়ের বিরুদ্ধে গোল পায়। কেভিন লেনিনির গোলে এগিয়ে যায় কেপ ভার্দে। ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে দেখা যায় গোলকিপার ভোজিন্হার মা অ্যানা ক্যান্ডিদা ইভোরাকে। আর্থিক পরিস্থিতির জন্য মার্কিন মুলুকে আসার স্বপ্ন অধরা থেকে গিয়েছিল। কিন্তু স্পেন ম্যাচের নায়ক কেপ ভার্দের গোলকিপার বিষয়টি জানাতেই ফিফা তাঁর মাকে আনার উদ্যোগ নেয়। অবশেষে গ্যালারিতে বসে ছেলের আরও একটি অনবদ্য পারফরম্যান্সের সাক্ষী থাকেন। 

পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরে উরুগুয়ে। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে ১-১ করেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউজো। তার কয়েক মিনিটের মধ্যে ২-১। প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমে গোল করে উরুগুয়েকে এগিয়ে দেন অগাস্টিন ক্যানোবিও। বিরতির স্কোরলাইন কেপ ভার্দেকে দমাতে পারেনি। তবে এগিয়ে থাকার পর যেভাবে জোড়া গোল হজম করেছে, তাতে অখুশি থাকাই স্বাভাবিক। তাও আবার মাত্র ৪-৫ মিনিটের ব্যবধানে। ম্যাচের ৬১ মিনিটে হেলিও ভারেলার ঐতিহাসিক গোল ম্যাচে সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে। বাকি সময়টা কোনও দলই আর গোলমুখ খুলতে পারেনি। ম্যাচ শেষে উরুগুয়ের মিডিয়ার তোপের মুখে পড়েন বিয়েলসা। তিনি বলেন, 'আমরা গোল হওয়ার ভয় না পেয়ে আক্রমণ চালিয়ে যাই। আমরা ম্যাচটা জিততেও পারতাম, হারতেও পারতাম। উরুগুয়ে কেপ ভার্দের থেকে অনেক ভাল দল। কিন্তু আমরা সেটা দেখাতে পারিনি। আমাদের স্পেনকে হারাতেই হবে। আমাদের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ।' ছন্দে থাকা স্পেনকে হারিয়ে উরুগুয়ে পরের রাউন্ডে যেতে পারবে কিনা সময়ই বলবে। কেপ ভার্দে নক আউটের ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে পারবে কিনা সেটা জানতেও অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু রেজাল্ট যাই হোক না কেন, বিশ্বমঞ্চে মন জয় করে নিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি।