আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝেই ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা তাঁর একটি মন্তব্যে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। একটি জনসভায় লুলা মজার ছলে বলেন, 'নেইমার বিশ্বের প্রথম হোম অফিস বা রিমোট ফুটবলার। কারণ দলে থাকলেও মাঠে নামছেন না।' এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
নেইমারের অনুপস্থিতির মূল কারণ তাঁর চোট। মে মাসে ক্লাব ফুটবল খেলতে গিয়ে ডান পায়ের পেশিতে চোট পান ৩৪ বছরের ফরোয়ার্ড। সেই চোট পুরোপুরি সারিয়ে উঠতে পারেননি। এখনও ফিট হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ফলে বিশ্বকাপের প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে তাঁকে খেলানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে নেইমারের অভাব চোখে পড়ে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার অভাব ছিল। পরবর্তী ম্যাচগুলিতেও তাঁর অনুপস্থিতি দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারায় ব্রাজিল।
নেইমারের না খেলার প্রেক্ষাপটেই লুলার মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। অনেকেই মনে করছেন, পুরোপুরি সুস্থ না হয়েও নেইমারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেই বিতর্ক ছিল। কোচ কার্লো আনচেলত্তির এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সমর্থন এবং সমালোচনা, দুই একইসঙ্গে চলছে। একাধিক ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ব্রাজিল এখনও অনেকটাই নেইমারের ওপর নির্ভরশীল। তাঁর ফিটনেসই দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্রাজিল শিবির সূত্রে জানা গিয়েছে, নেইমারকে দ্রুত মাঠে নামানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না দল। বরং, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলির কথা মাথায় রেখে ধীরে ধীরে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাঠের বাইরের মন্তব্য, রাজনৈতিক রসিকতা এবং দলের পারফরম্যান্স - সবকিছু মিলিয়ে নেইমার এবং ব্রাজিল দল এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
















