আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার ভারতীয় সময় রাত সাড়ে দশটায় নকআউট পর্বে জাপানের মুখোমুখি ব্রাজিল। সবার নজর থাকবে ভিনিশিয়াস জুনিয়রের দিকে। প্রথম ম্যাচে আটকে যাওয়ার পর জোড়া ম্যাচ জিতে নকআউট পর্বে সেলেকাওরা। দুই ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তারকা ফুটবলার। এবার দলকে শেষ ষোলোয় পৌঁছে দিতে তৈরি। তার আগে ব্রাজিলের একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি নিজের মনের কথা জানান রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। বিশ্বকাপের স্বপ্ন, ব্যক্তিগত মাইলস্টোনের কথা বলার পাশাপাশি ঠাকুমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, ব্যক্তিগত যাত্রা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করলেন। 

ভিনি জানান, আজ তিনি যে জায়গায় পৌঁছেছেন, তার পেছনে তাঁর ঠাকুমার অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর বেড়ে ওঠার দিনগুলোতে পাশে পেয়েছিলেন তাঁকে। ভিনিসিয়াস বলেন, 'আমার ঠাকুমা আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমি ১৬ বছর পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিলাম। আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কারণ আবার বাবা আমার থেকে অনেক দূরে থাকত। তাই আমি মা এবং ভাই-বোনদের নিয়ে ঠাকুমার সঙ্গে থাকতাম। আমাদের বাড়ি খুব ছোট ছিল। আমি ঠাকুমার সঙ্গে ঘুমোতাম। উনিই আমার জীবন বদলে দিয়েছে।' 

ফুটবলে বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন ভিনি। রিয়াল মাদ্রিদে খেলাকালীন ইউরোপের একাধিক স্টেডিয়ামে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। ব্রাজিলীয় তারকা চান না, ভবিষ্যৎতেও এটা অব্যাহত থাকুক। এই প্রসঙ্গে ভিনি বলেন, 'আমি চাই না পরের প্রজন্মও বর্ণবিদ্বেষের স্বীকার হোক। মাঠে ভাল খেলার পাশাপাশি, মাঠের বাইরেও আমি তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে চাই। কালো মানুষদের জন্য লড়াই করতে চাই। যাদের নিজেদের জন্য লড়াই করার মঞ্চে নেই, যা আমার আছে।' 

চলতি বিশ্বকাপে এখনও প্রযন্ত চারটে গোল করে ফেলেছেন ভিনি। রয়েছে একটি অ্যাসিস্টও। ব্রাজিলের ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই লক্ষ্য। ভিনি বলেন, 'আমার স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপে খেলা। আমি নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলছি। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার থেকে ভাল অনুভূতি আর কিছু হতে পারে না। সহজ মনে হলেও, বছরের পর বছরের লড়াই।' টানা ১২ বার গ্রুপের একনম্বরে দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার নজির গড়েছে ব্রাজিল। ১৯৮২ সাল থেকে প্রত্যেক বিশ্বকাপে গ্রুপের একনম্বরে দল হয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার নজির রয়েছে ব্রাজিলের।