আজকাল ওয়েবডেস্ক: অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন। যা নিয়ে আলোচনা চলছে টি–২০ বিশ্বকাপে। কথা হচ্ছে পাকিস্তানের উসমান তারিককে নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন গ্রিন সেই অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। তবে উসমান তারিককে ক্রিকেটার হতে যে পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা শুনলে অনেকেরই চমকে যাওয়ার কথা। ক্রিকেট খেলার আশা এক সময় ছেড়ে দিয়েছিলেন তারিক। কিন্তু মহেন্দ্র সিং ধোনির বায়োপিক তাঁর জীবন বদলে দেয়।
সম্প্রতি এক ইন্টারভিউয়ে তারিক বলেছেন, ‘ক্রিকেটে ছাপ ফেলার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। একদিন ওই সিনেমাটা দেখি। বুঝে যাই, আমিও একই কাজ করতে পারব।’ ২০১৭ সালের ঘটনা। রাতের খাবার খেতে খেতে ধোনির বায়োপিক দেখছিলেন তারিক। সেই রাতই তাঁর জীবন বদলে দেয়। দুবাইয়ের কাজ ছেড়ে তিনি ফেরেন পাকিস্তানে।
যদিও সাফল্য সহজে আসেনি। নৌশেরায় একটি অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন। সেখান ইফতিকার আহমেদকে নেটে বল করতেন। একদিন বোলিংয়ের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। রাতারাতি নাম করে ফেলেন তারিক। ক্লাবগুলি ম্যাচ খেলানোর জন্য তারিককে ভাড়া করতে থাকে। ম্যাচ পিছু ৫০০–১৫০০ টাকা পেতেন। এর পর আমেরিকা থেকে প্রস্তাব পান একটি ছোট ক্লাবে খেলার। এর পর করাচি প্রিমিয়ার লিগে খেলে সকলের নজর কাড়েন। এর পর সুযোগ পান পাকিস্তান সুপার লিগে। সেখান থেকে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় দল হয়ে এখন বিশ্বকাপে।
খুব ছোটবেলায় বাবাকে হারান তারিক। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন তিনিই। কিশোর থাকতে থাকতেই দুবাই চলে যান। সেখানে একটি হোটেলে পেঁয়াজ কাটার কাজ করতেন। কয়েক সপ্তাহ করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়ে ফিরে আসেন পেশোয়ারে। একটানা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পিঠে ব্যথা করত তারিকের।
সেই সময় তারিকের এক বন্ধু হাসিব কাজ করতেন কাবুলের একটি এনজিও–তে। সেখানে ডেকে নেন তারিককে। কিন্তু কাবুলের অসহ্য ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েন তারিক। হাসিবের প্রয়াস সত্ত্বেও চাকরি পাননি। তিন সপ্তাহ পর দেশে ফেরেন। এরপর পেশোয়ারে ফিরে আবার দুবাই চলে যান। দুবাই বিলাসবহুল শহর হওয়ায় ভাল চাকরি ছাড়া থাকার জায়গা পাওয়া কঠিন ছিল। তাই একটি শ্রমিক শিবিরে থাকতে শুরু করেন ২০ জনের সঙ্গে ঘর ভাগ করে। পরে একটি সংস্থায় চাকরি পান।
পেশোয়ার জালমির ট্রায়ালে গিয়ে নির্বাচকদের খুশি করেন তারিক। যদিও প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সই করানো হয়নি তাঁকে। পরে জালমি ম্যাচ খেলার জন্য পাকিস্তানে ডাকে তারিককে। কিন্তু চাকরি হারানোর ভয়ে পিএসএলের দলের প্রস্তাবে না করে দেন তারিক। এর পরেই আসে ধোনির বায়োপিক দেখার সেই দিন। যা বদলে দেয় পাক স্পিনারের জীবন।
