আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় ফুটবলের তারকা সুনীল ছেত্রী আবেদন জানালেন টাটা গোষ্ঠীর কাছে। জামশেদপুর এফসি-র ইন্ডিয়ান সুপার লিগ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য টাটা নেতৃত্বকে অনুরোধ করেছেন তিনি। ছেত্রীর মতে, দেশের সর্বোচ্চ স্তরের ফুটবল থেকে টাটা গোষ্ঠীর সরে যাওয়া ভারতীয় ফুটবলের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

এক আবেগঘন পোস্টে ছেত্রী এই ঘটনাকে “পেটে ঘুষি খাওয়ার মতো আঘাত” বলে বর্ণনা করেন। তিনি টাটা গোষ্ঠীকে “মাথার বদলে হৃদয়ের কথা শুনে” সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানান।

জেএফসির মালিক টাটা গোষ্ঠী শুক্রবার ঘোষণা করেছে, ২০২৬-২৭ মরশুম থেকে তারা আর আইএসএলে অংশ নেবে না। চলতি ডুরান্ড কাপ শেষ হওয়ার পর ক্লাবের প্রথম দলের কাজও বন্ধ করে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসন্ন মরশুমের অংশগ্রহণ ফি জমা দিতে না পারার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে।

জামশেদপুর এফসির এই সিদ্ধান্তে দলের ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফরা হতবাক। ডুরান্ড কাপে খেলতে থাকা দলের সদস্যরা ক্লাবকে আইএসএলে ধরে রাখার জন্য টাটা গোষ্ঠীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। দলের ডিফেন্ডার প্রতীক চৌধুরী ‘এক্স’-এ পোস্ট করা একটি ভিডিওয় জানান, এই ঘোষণা পুরো দলের কাছে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ছিল।

ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম দলের কার্যক্রম বন্ধ হলেও ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে তারা অন্য উদ্যোগ, বিশেষ করে গ্রাসরুটস ডেভেলপমেন্ট বা তৃণমূল স্তরের কাজ চালিয়ে যাবে। তবে জেএফসির সরে যাওয়া আইএসএলের একটি দল কমিয়ে দিল এবং দেশের ক্লাব ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সুনীল ছেত্রী তাঁর পোস্টে টাটা গোষ্ঠীর ভারতীয় ফুটবলে অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি (টিএফএ) থেকে শুরু করে জেএফসি পর্যন্ত, দেশের ফুটবলের অন্যতম স্তম্ভ ছিল এই সংস্থা।

ছেত্রী লেখেন, “ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকা সহজ নয়। যখন চারপাশে সবকিছু ভেঙে পড়ার মতো মনে হয়, তখন পরিবারের সদস্যরাই একে অপরকে ধরে রাখে। আর সেই সময়ে পরিবারের প্রবীণদের কাছ থেকেই আশ্বাস পাওয়া যায়। টিএফএ এবং পরে জেএফসির মাধ্যমে টাটা গোষ্ঠী আমাদের অন্যতম ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছিল।” 

পেশাদার খেলাধুলায় ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের গুরুত্ব স্বীকার করেও ছেত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে ভারতীয় ফুটবলের টাটা গোষ্ঠীর সমর্থন আরও বেশি প্রয়োজন।

তিনি লেখেন, “জামশেদপুর প্রথম দলের কার্যক্রম বন্ধ করেছে জানতে পারাটা পেটে ঘুষি খাওয়ার মতো আঘাত। খেলোয়াড় ও কর্মীরা ক্লাব হারাবেন, হয়তো শেষ পর্যন্ত তাঁরা নতুন দল খুঁজে পাবেন। লিগে একটি দল কমবে, তবুও মরশুম চলবে। কিন্তু দেশের শীর্ষ ফুটবলে টাটা গোষ্ঠীর অনুপস্থিতি হবে বিপর্যয়কর, যার কোনও বিকল্প নেই।”

ছেত্রী আরও বলেন, “খেলার জগতে অনেক সময় বোর্ডরুমের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়। কিন্তু আমি শুধু অনুরোধ করতে পারি, টাটার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা যেন মাথার বদলে হৃদয়ের কথা শুনে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। হয়তো এটি ব্যবসায়িক দিক থেকে সেরা সিদ্ধান্ত হবে না, কিন্তু এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন একটি সিদ্ধান্তেরই।”

এদিকে, অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) আইএসএল ক্লাবগুলির জন্য অংশগ্রহণ ফি বাবদ ১.১ কোটি টাকা জমা দেওয়ার সময়সীমা ২০ জুলাই নির্ধারণ করেছিল। পরে সেই সময়সীমা শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সূত্রের খবর, জেএফসির বোর্ড আইএসএলে চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে প্রথম দলের কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, মূল সময়সীমা পার করা ইন্টার কাশী বর্ধিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দেয়। বাকি ১৩টি ক্লাবও নির্ধারিত অর্থ প্রদান করেছে।

২০২৬-২৭ আইএসএল মরশুম শুরু হওয়ার কথা ৪ সেপ্টেম্বর থেকে। জামশেদপুর এফসির বিদায় ভারতীয় ফুটবলের জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা, কারণ দেশের অন্যতম বড় কর্পোরেট সংস্থা এবার দেশের শীর্ষ ফুটবল লিগ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে।