আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেটের বাণিজ্যিক প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আইপিএল ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনার দরজা খোলা রাখল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা।
এই সম্ভাবনা সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ২০২৬-২৭ মরশুমের বিগ ব্যাশ লিগের উদ্বোধনী ম্যাচ ভারতের চেন্নাইয়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেলবোর্ন রেনেগেডস ও পার্থ স্কর্চার্সের মধ্যে হতে চলা সেই ম্যাচ হবে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে আয়োজিত প্রথম অফিসিয়াল বিবিএল ম্যাচ। ক্রিকেটবিশ্বে এটিকে ভারতীয় বাজারে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি লিগের প্রসার এবং দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরও মজবুত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সর্বভারতীয় স্তরের একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিশ্ব ক্রিকেটের অর্থনীতিতে ভারতের গুরুত্ব সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আইপিএল ম্যাচ বা ভারতের কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনাও তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মুখপাত্র বলেন, “অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট আইসিসির সব অংশীদার দেশের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কাজ করে। ক্রিকেটের অর্থনীতিতে ভারতের শক্তিশালী প্রভাব আমরা স্বীকার করি। বিশেষ করে ভারতীয় দলের সফরগুলি সম্প্রচার স্বত্ব থেকে পাওয়া আয়ের মাধ্যমে অন্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলিকেও উপকৃত করে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ভারতীয় দর্শকদের কাছে বিগ ব্যাশকে তুলে ধরতে পেরে খুশি। ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় কোনও আইপিএল ম্যাচ বা ভারতের দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না।”
এদিকে, ভারতে অ্যাশেজ টেস্ট আয়োজনের জল্পনা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এর আগে সিএ-র প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ একটি পডকাস্টে জানিয়েছিলেন, অ্যাশেজের ১৫০-তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভারতের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট আয়োজনের বিষয়টি ভাবা যেতে পারে।
তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, সেটি শুধুমাত্র আলোচনার প্রসঙ্গে উঠে এসেছিল। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের বাইরে অ্যাশেজ টেস্ট আয়োজনের কোনও পরিকল্পনা নেই।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মুখপাত্র বলেন, “অ্যাশেজ টেস্ট আয়োজনের বিষয়টি পডকাস্টের আলোচনায় একজন সঞ্চালক তুলেছিলেন। এই ম্যাচ অন্য কোনও দেশে আয়োজনের জন্য বর্তমানে কোনও পরিকল্পনা নেই।”
ভারতীয় ক্রিকেটের বিশাল বাজার এবং অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি লিগের জনপ্রিয়তা, দুইয়ের মেলবন্ধনে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও বড় বাণিজ্যিক উদ্যোগ দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
















