আজকাল ওয়েবডেস্ক: গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের হয়ে ব্রোঞ্জ পদক জেতার পর আবেগাপ্লুত ঝান্ডু কুমার। নিজের দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনি তুলে ধরলেন প্যারা পাওয়ারলিফটার। ই-রিকশা চালানো থেকে সবজি বিক্রি। সেখান থেকে কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চ। অবিশ্বাস্য যাত্রা। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিং ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জয়ের পর তিনি জানিয়েছেন, ই-রিকশা চালানো, সবজি বিক্রি করা এবং চরম আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়েও তিনি কখনও নিজের স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি।
ঝান্ডু বলেন, 'আমি ই-রিকশা চালিয়েছি, সবজি বিক্রি করেছি। নিজের খরচ চালাতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু কখনও স্বপ্ন ছাড়িনি। আমার বিশ্বাস ছিল, একদিন না একদিন দেশের জন্য অবশ্যই একটা পদক জিতব।' নিজের সাফল্য পরিবার সহ যারা কঠিন সময় তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ঝান্ডু বলেন, 'এই পদক শুধু আমার নয়, আমার কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে ছিলেন, তাঁদের সকলের। এই সাফল্য আমাকে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের জন্য লড়াই করার অনুপ্রেরণা দিল।'
প্রতিযোগিতায় দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল অংশগ্রহণকারীদের। গ্রুপ 'বি'-তে ১৩০.৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন ঝান্ডু। তিনি উগান্ডার ডেনিস এমবাজিরা (১১৪.১) এবং অস্ট্রেলিয়ার বেন রাইটকে (১১০.৯) পিছনে ফেলে পদকের লড়াইয়ে জায়গা করে নেন। তবে সম্মিলিত ফলাফলে নাইজেরিয়ার রিলুওয়ান ইদ্রিস ১৩২.৮ স্কোর করে সোনা জেতেন। ইংল্যান্ডের ম্যাথিউ হার্ডিং ১৩১.০ পয়েন্ট নিয়ে রুপো পান। ঝান্ডুর ১৩০.৯ স্কোর তাঁকে ব্রোঞ্জ এনে দেয়। মাত্র ০.১ পয়েন্টের জন্য রুপোর পদক হাতছাড়া হয় ভারতীয় প্যারা পাওয়ারলিফটারের।
মঞ্চে তাঁর পারফরম্যান্স যতটা প্রশংসিত হয়েছে, তার চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে তাঁর জীবনসংগ্রামের গল্প। আর্থিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেও খেলাকে আঁকড়ে ধরে থাকার ফলে এসেছে এই সাফল্য। ঝান্ডুর এই ব্রোঞ্জ পদক শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বছরের পর বছর ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য মানসিক শক্তির স্বীকৃতি। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা অসংখ্য তরুণ ক্রীড়াবিদের কাছে তিনি অনুপ্রেরণা।
















