আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএল ইতিহাসে এক অসাধারণ রেকর্ড গড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ১৫ বছরের কিশোর বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র দ্বিতীয় আইপিএল মরশুমেই তিনি যে কীর্তি গড়েছেন, তা আগে কোনও ব্যাটারের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ জন ব্যাটার এক মরশুমে ৭০০ বা তার বেশি রান করেছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন এই কৃতিত্ব দু'বার করে অর্জন করেছেন। তবে তাঁদের কেউই প্রথম তিনটি আইপিএল মরশুমে এই মাইলফলকে পৌঁছতে পারেননি। বরং সবাই ছিলেন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটার।
ক্রিস গেইল তাঁর চতুর্থ মরশুমে এই কীর্তি গড়েছিলেন। অন্যদিকে আইপিএল ইতিহাসে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক বিরাট কোহলি এই ৭০০-রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন অভিষেকের আট বছর পর।
কিন্তু এই সব অভিজ্ঞতার ধারাকে যেন উলটে দেন বৈভব সূর্যবংশী। তাঁর প্রথম পূর্ণ মরশুমেই খেলেন এক অবিশ্বাস্য ইনিংস।
১৬ ইনিংসে ৭৭৬ রান, স্ট্রাইক রেট ২৩৭.৩১। আইপিএল ইতিহাসে প্রথমবার কোনও ব্যাটার সাতশো প্লাস রান করার পাশাপাশি ১৭০-এর বেশি স্ট্রাইক রেট বজায় রাখেন। মরশুমজুড়ে তাঁর ব্যাটিং ছিল সম্পূর্ণ আলাদা স্তরের।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল, এই সাফল্য তিনি যেন আগে থেকেই দেখতে পেয়েছিলেন।
ফাইনাল পর্বের পর সম্প্রচারকারীদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে সূর্যবংশী জানান, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তিনি নিজের ফোনে একটি লক্ষ্য লিখে রেখেছিলেন। আর তা হল, আইপিএল ২০২৬-এ ৭০০ রান করতে হবে।
প্রতিটি ম্যাচের পর তিনি সেই নোটে ফিরে যেতেন, নিজের সঙ্গে তুলনা করতেন। লক্ষ্য পূরণের দিকে নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতেন।
শেষ ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে কোয়ালিফায়ার-২-এ তাঁর ৪৭ বলে ৯৬ রানের দাপুটে ইনিংস সূর্যবংশীকে পৌঁছে দেয় সেই কাঙ্ক্ষিত ৭০০ রানের গণ্ডিতে।
গোটা মরশুমে শুধু ব্যাটিং নয়, চাপের পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রেও পরিণত মানসিকতার পরিচয় দেন তিনি। ফলে মরশুম শেষে প্রায় সব ব্যক্তিগত সম্মান উঠেছে তাঁর হাতে।
তিনি জিতেছেন এমার্জিং প্লেয়ার অফ দ্য সিজন, অরেঞ্জ ক্যাপ, সুপার স্ট্রাইকার, সুপার সিক্সেজ (মরশুমে সর্বাধিক ৭২টি ছক্কা) এবং মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার।
সূর্যবংশীকে বলতে শোনা গিয়েছে, ''চাপের মুহূর্তে কীভাবে খেলতে হয়, এই মরশুমে সেটাই শিখেছি। পরিস্থিতি অনুযায়ী কীভাবে নিজের খেলা বদলাতে হয় তাও শিখেছি। একই মানসিকতা নিয়ে সব ম্য়াচ খেলা সম্ভব নয়। খেলার পরিস্থিতি বুঝে এবং দল কী চাইছে, সেই মতো খেলতে হবে। অনেক কিছু শিখেছি এবারের আইপিএলে। বিশেষ করে প্লে অফে।''
সবশেষে তাঁর সেই ফোনের নোটই যেন পুরো গল্পটা বলে দেয়। এক কিশোরের লেখা লক্ষ্য, যা মাঠে বাস্তবে পরিণত হয়েছে এবং ক্রিকেট বিশ্বের সামনে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।















