আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে না খেলার পাকিস্তান সরকারের ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষিতে আইসিসির অবস্থানের সঙ্গে ‘সম্পূর্ণ একমত’ বলে জানাল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। সোমবার বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে তিনি বলেন, ‘আইসিসি একটি বড় বিবৃতি দিয়েছে, যেখানে ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার কথা বলা হয়েছে। আমরা আইসিসি-র বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আইসিসি-র সঙ্গে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত বিসিসিআই এই বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করবে না।’

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মন্তব্যের পর আইসিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানায়, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত ‘নির্বাচিত অংশগ্রহণ’-এর শামিল। এই ধরনের সিদ্ধান্ত বহুদেশীয় ক্রীড়া ইভেন্টের নীতির পরিপন্থী।

সরকারগুলির ভূমিকার প্রতি সম্মান জানালেও আইসিসি জোর দিয়ে বলেছে, এই পদক্ষেপ বিশ্ব ক্রিকেট বা সমর্থকদের স্বার্থে নয়। পাশাপাশি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তান ক্রিকেটকে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে, এমনকি আন্তর্জাতিক কাঠামোয় তাদের অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও। তিনি বলেন, ক্রিকেটকে কখনওই আটকে রাখা যায় না। তবে একই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, গোটা বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল বিসিসিআইয়ের বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে না খেলতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরই।

সেই সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ। প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপের আগে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ভারতে আসতে অস্বীকার করে। এরপর আইসিসি তাদের টুর্নামেন্টের সূচি থেকে বাদ দেয়।

বাংলাদেশের জায়গায় দলে নেওয়া হয় স্কটল্যান্ডকে। এর পরই পাকিস্তান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের প্রতি ‘সংহতি’ প্রকাশ করে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শশী থারুর বলেন, ‘খোলাখুলি বললে, দু’পক্ষের দিক থেকেই এইভাবে খেলাকে রাজনীতির রং দেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। মুস্তাফিজুরের কলকাতায় খেলার চুক্তি বাতিল করা উচিত হয়নি। এটা ছিল রাজনীতির অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হস্তক্ষেপ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াটা কিছুটা বাড়াবাড়ি ছিল, কিন্তু সেটাও একই মানসিকতার প্রতিফলন। পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

পুরো বিষয়টা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, এটা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য একটা ওয়েক-আপ কল। জরুরি ভিত্তিতে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করা দরকার, আর আইসিসি এই আলোচনার মঞ্চ হতে পারে। এই সব অর্থহীন নাটক বন্ধ করা উচিত। এভাবে অনন্তকাল চলতে পারে না।’