আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী বছরের জানুয়ারিতে শুরু হতে চলা পাঁচ ম্যাচের বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ভারত সফরে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার ইতিহাস বদলাতে এবার প্রচলিত ওয়ার্ম-আপ ম্যাচের বদলে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে জোর দিচ্ছে প্যাট কামিন্সের দল।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, ভারত সফরের আগে কোনও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে না দল। তার বদলে এমন একটি ভেন্যুতে বিশেষ ট্রেনিং ক্যাম্প আয়োজন করা হবে, যেখানে ভারতের মতোই পিচ, আবহাওয়া ও পরিবেশ পাওয়া যাবে। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ভারতের বেঙ্গালুরুর মতো কয়েকটি জায়গা বিবেচনায় রয়েছে।
ম্যাকডোনাল্ড বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, প্রস্তুতি ম্যাচের চেয়ে ভারতের মতো পরিবেশে অনুশীলন করাই বেশি কার্যকর হবে। এমন একটি জায়গা চাই, যেখানে প্রথম টেস্ট কিংবা পুরো সিরিজের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব।"
আগামী ২১ জানুয়ারি নাগপুরে শুরু হবে পাঁচ ম্যাচের বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি। এরপর সিরিজ গড়াবে চেন্নাই, গুয়াহাটি, রাঁচি ও আহমেদাবাদে।
অস্ট্রেলিয়া এর আগেও ২০২৩ সালের ভারত সফরের আগে বেঙ্গালুরুতে বিশেষ প্রস্তুতি শিবির করেছিল। এবার সেই পরিকল্পনাকে আরও বিস্তৃত আকারে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
ভারত সফরের জন্য সম্ভাব্য বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটারদেরও আগেভাগে প্রস্তুতির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠের টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পর ভারত সফরের দল চূড়ান্ত করা হবে। ফলে শেষ টেস্ট সিরিজের স্কোয়াডের বাইরেও কিছু ক্রিকেটার ভারত সফরে সুযোগ পেতে পারেন।
এ কারণে কয়েকজন ক্রিকেটারকে বিগ ব্যাশ লিগের কিছু ম্যাচ থেকে বিরত রেখে লাল বলের ক্রিকেটে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
ভারত সফরের সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের তালিকায় রয়েছেন বাঁ হাতি স্পিনার ম্যাথু কুহনেম্যান, অফস্পিনার টড মারফি, অলরাউন্ডার কুপার কনোলি, এবং ব্যাটার পিটার হ্যান্ডসকম্ব ও ম্যাথিউ রেনশ।
ভারতের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ২০০৪-০৫ মরশুমে। এরপর একাধিক সফরেও সাফল্য না পাওয়ায় এবার প্রস্তুতির ধরনেই বড় পরিবর্তন আনছে তারা।
ভারতের স্পিন, উইকেট ও আবহাওয়ার সঙ্গে যত দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই বিশেষ প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আশা, এই নতুন কৌশলই হয়তো দুই দশকের বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান ঘটাবে।
এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইয়ে এই পরিকল্পনা কতটা সফল হয় এবং জানুয়ারিতে শুরু হওয়া বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতে তার প্রতিফলন দেখা যায় কি না।
















