আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৈভব সূর্যবংশীর পর বিহারের মাটিতে জন্ম নিল আরেক ক্রিকেট তারকা। ১৫ বছরের অক্ষরা গুপ্তার বিধ্বংসী ৩০৬ রানের ইনিংস দেখে বিস্মিত সবাই।
ক্রিকেটপ্রেমীদের নজরে এখন একটাই নাম অক্ষরা গুপ্তা। বিহারের রক্সৌল-এর এই তরুণ প্রতিভা বিহার মহিলা অনূর্ধ্ব-১৯ একদিনের ট্রফি-র উদ্বোধনী ম্যাচে খেলেছেন অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। মাত্র ১০৬ বলে অপরাজিত ৩০৬ রান করেছেন তিনি।
রক্সৌলের অক্ষরা ভাগলপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী মেজাজে। প্রতিপক্ষ বোলারদের উপরে নির্দয় ছিলেন তিনি। ৫৫টি চার ও ৮টি ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। ৩০৬ রানের মধ্যে ২৬৮ রানই আসে শুধুমাত্র বাউন্ডারি থেকে।
তিনি যে বড় কিছু করতে চলেছেন তা শুরু থেকেই বোঝানোর চেষ্টা করেন। মাত্র ১৬ বলেই পূর্ণ করেন অর্ধশতরান, আর ৩৪ বলে পৌঁছে যান শতরানে।
এরপরও থামেননি তিনি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বজায় রেখে পৌঁছে যান বিরল তিনশোর মাইলফলকে। তাঁর এই কীর্তি নিঃসন্দেহে বিরল।
অক্ষরা নাম লেখালেন এক বিশেষ তালিকায়। ইরা যাদবের সঙ্গে একই বন্ধনীতে এখন তিনি। ইরা গত বছর মহিলা অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে ট্রফিতে অপরাজিত ৩৪৬ রান করেছিলেন।
অক্ষরার সাফল্যের পিছনের গল্পও অনুপ্রেরণামূলক। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম তাঁর। বাবা রাজ কিশোর শাহ একটি ছোট মুরগির দোকান চালান। মাত্র আট বছর বয়সে প্রথম ব্যাট হাতে তুলে নেন অক্ষরা। নিজের শহরে মেয়েদের জন্য পেশাদার কোচিংয়ের সুযোগ না থাকলেও তিনি হার মানেননি। বাড়ির কাছেই একটি অস্থায়ী পিচে কাকার তত্ত্বাবধানে শুরু হয় তাঁর ক্রিকেট অনুশীলন।
কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার ফল খুব দ্রুতই মেলে। অক্ষরা জায়গা করে নেন বিহারের মহিলা অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। আশ্চর্যের বিষয়, মাত্র ১৪ বছর বয়সেই তাঁর কাঁধে তুলে দেওয়া হয় দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব। এক মরশুমেই তিনি অংশ নেন বিসিসিআইয়ের চারটি বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে।
বোর্ডের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অক্ষরার এই পারফরম্যান্স এখন সারা দেশের আলোচনার কেন্দ্রে। অনেকেই মনে করছেন, বিহারের এই কিশোরী ভবিষ্যতে দেশের মহিলা ক্রিকেটের বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন। ক্রিকেটবিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে, অক্ষরা গুপ্তার পরবর্তী বিস্ফোরক ইনিংসের অপেক্ষায়।
















