আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে ভারত। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে অন্যতম সেরা অভিযান উপহার দিয়ে ভারতীয় দল জিতেছে মোট ৩৯টি পদক। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবারের কমনওয়েলথ গেমসের সূচি ছিল তুলনামূলক ছোট। ভারতের ঐতিহ্যগতভাবে পদক এনে দেওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট যেমন শুটিং, কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, হকি এবং টেবিল টেনিস এবারের আসরে ছিল না। তবুও এই সাফল্য ভারতের ক্রীড়া শক্তির প্রমাণ দিয়েছে।
ভারতীয় অ্যাথলিটদের প্রস্তুতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার মোট ৫৩.০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। এই অর্থ খরচ হয়েছে বিদেশে প্রশিক্ষণ শিবির, আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স সাপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জন্য। চূড়ান্ত পদক সংখ্যার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি পদকের জন্য ভারতের খরচ হয়েছে আনুমানিক ১.৩৬ কোটি টাকা।
তবে সব খেলায় বিনিয়োগের ফল একরকম হয়নি। কিছু বিভাগে কম খরচে এসেছে বেশি সাফল্য, আবার কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি বিনিয়োগের পরও পদক সংখ্যা কম ছিল।
ভারতের অন্যতম সফল বিভাগ ছিল বক্সিং। ১৪ সদস্যের দলের প্রস্তুতির জন্য খরচ হয়েছিল ১০ কোটিরও বেশি টাকা। তার বিনিময়ে বক্সাররা জিতেছেন ১০টি পদক, যার মধ্যে রয়েছে রেকর্ড সাতটি সোনা।
হিসাব অনুযায়ী, বক্সিংয়ে প্রতি পদকের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা, যা ভারতের সবচেয়ে লাভজনক বিভাগগুলির একটি। অলিম্পিক্স ব্রোঞ্জজয়ী লাভলিনা আরও একটি কমনওয়েলথ পদক যোগ করেছেন তাঁর কেরিয়ারে। এছাড়াও সাক্ষী চৌধুরী, প্রীতি পাওয়ার, প্রিয়া ঘানঘাস, জেসমিন লাম্বোরিয়ারা সোনা জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
ভারোত্তোলন ছিল ভারতের সবচেয়ে কার্যকর বিভাগগুলির মধ্যে অন্যতম। ১২ সদস্যের দলের জন্য সরকার ৭.৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। বার্মিংহামে অ্যাক্লিমাটাইজেশন ক্যাম্প-সহ বিভিন্ন প্রস্তুতির পর ভারোত্তোলকরা জিতেছেন আটটি পদক—একটি সোনা, ছয়টি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ।
এই বিভাগে প্রতি পদকের খরচ হয়েছে ৯৪ লক্ষ টাকারও কম, যা প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের সেরা বিনিয়োগ-ফলাফল।
এই অভিযানের মূল আকর্ষণ ছিলেন মীরাবাই চানু। তিনি ইতিহাস গড়ে টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতেছেন। দলের অন্য সদস্যরাও ধারাবাহিকভাবে পদক এনে সাফল্যের হার বাড়িয়েছেন।
ভারতের সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল অ্যাথলেটিক্সে। ৩২ সদস্যের দলের জন্য খরচ হয়েছে ২০ কোটিরও বেশি টাকা। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অ্যাথলিটরা কলোরাডো স্প্রিংসে উচ্চতাজনিত প্রশিক্ষণ এবং সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক ও দক্ষিণ আফ্রিকায় শিবিরে অংশ নিয়েছিলেন।
এই বিনিয়োগের ফলে ভারত অ্যাথলেটিক্সে পেয়েছে ১০টি পদক। পাঁচটি রুপো এবং পাঁচটি ব্রোঞ্জ। তবে এই বিভাগে প্রতি পদকের খরচ হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা, যা বড় ক্রীড়া কর্মসূচিগুলির মধ্যে তুলনামূলক বেশি।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাথলেটিক্সে বিনিয়োগ শুধুমাত্র কমনওয়েলথ পদকের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই অর্থের একটি বড় অংশ ভবিষ্যতের অলিম্পিক সাফল্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, প্রতিভা বিকাশ এবং একাধিক ইভেন্টে ক্রীড়াবিদ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়েছে।
২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের সাফল্য তাই শুধু পদকের সংখ্যায় নয়, বরং বিভিন্ন খেলায় বিনিয়োগের কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ ক্রীড়া পরিকল্পনার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে।
















