প্রেমের সম্পর্ক শুরু করা যতটা সহজ মনে হয়, সম্পর্ক শেষ করা অনেকের কাছেই ততটাই কঠিন। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভাঙার কথা সঙ্গীকে জানাতে গিয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। কেউ সরাসরি বলতে পারেন না, আবার কেউ কোনও ব্যাখ্যা না দিয়েই হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এই আচরণকে বলা হয় 'ঘোস্টিং'। এতে যাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন। এই সমস্যার সমাধান করতে এবার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে একটি সংস্থা।
সংশ্লিষ্ট ওই সংস্থা 'চিফ ব্রেকআপ অফিসার' নামে একটি নতুন পদে কর্মী নিয়োগ করছে। এই কর্মীর প্রধান দায়িত্ব হবে, সম্পর্ক শেষ করতে চাওয়া ব্যক্তির হয়ে তাঁর প্রেমিক বা প্রেমিকাকে বিচ্ছেদের কথা জানানো।
সংস্থার মতে, অনেকেই সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চান না, কিন্তু কীভাবে সেই কথা বলবেন, তা বুঝতে পারেন না। তাই তাঁরা ফোন ধরা বন্ধ করে দেন, মেসেজের উত্তর দেন না বা সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্লক করে দেন। এতে অপর ব্যক্তি অনেক দিন ধরে বুঝতেই পারেন না, সম্পর্কটি আদৌ শেষ হয়েছে কিনা। এই অনিশ্চয়তা অনেক সময় মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।
নতুন এই চাকরিতে যিনি থাকবেন, তিনি প্রথমে আবেদনকারীর কাছ থেকে পুরো বিষয়টি শুনবেন। কেন সম্পর্ক শেষ করতে চাইছেন, কতদিনের সম্পর্ক, কোনও বিশেষ সমস্যা রয়েছে কিনা—এসব তথ্য জেনে নেবেন। তারপর অপর পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে শান্তভাবে এবং সম্মানজনক ভাষায় জানিয়ে দেবেন যে সম্পর্কটি আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজনে কিছু প্রশ্নের উত্তরও দেবেন, যাতে বিষয়টি নিয়ে অযথা ভুল বোঝাবুঝি না হয়।
সংস্থার দাবি, সম্পর্ক ভাঙা দুঃখের হতে পারে, কিন্তু তা অসম্মানজনক হওয়া উচিত নয়। হঠাৎ করে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার বদলে স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত জানানোই বেশি দায়িত্বশীল আচরণ।
এই চাকরির খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
কেউ বলছেন, বর্তমান সময়ে এটি একটি প্রয়োজনীয় পরিষেবা। কারণ অনেকেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চান না। আবার অনেকে মনে করছেন, প্রেমের সম্পর্ক ব্যক্তিগত বিষয়। তাই সম্পর্ক ভাঙার কথাও নিজের মুখেই বলা উচিত, অন্য কাউকে দিয়ে নয়।
যাই হোক, এই অভিনব চাকরির ধারণা ইতিমধ্যেই সবার নজর কেড়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিষেবা আরও জনপ্রিয় হবে কিনা, তা সময়ই বলবে।















