সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত বন্যপ্রাণের নানাবিধ অদ্ভুত ও নজরকাড়া ভিডিও ভাইরাল হয়। কিন্তু সম্প্রতি এক ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার  একটি বাঘিনীর এমন এক মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন, যা দেখে নেটপাড়ায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। প্রথম ঝলকে দেখলে যে কেউ হয়তো ‘ছিঃ ছিঃ’ করে উঠতে পারেন, কিন্তু বাঘিনীর এই অদ্ভুত আচরণের পেছনের আসল বৈজ্ঞানিক কারণটি যখন সামনে এসেছে, তখন চোখ কপালে উঠেছে নেটিজেনদের। অনেকেই একে ‘বছরের সেরা ছবি’র তকমাও দিচ্ছেন।

ইনস্টাগ্রামে 'zhayynnjamesphotography' নামের একটি প্রোফাইল থেকে এই ছবিগুলি শেয়ার করা হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনী ওঁর লেজ উঁচিয়ে সজোরে প্রস্রাবের সূক্ষ্ম ফোয়ারা বাতাসে উড়িয়ে দিচ্ছে।

ফটোশুটের পেছনের বৈজ্ঞানিক রহস্য খোলসা করে ওই ফটোগ্রাফার ক্যাপশনে লিখেছেন,“আপনি কি জানেন যে বাঘ বা অন্যান্য বড় বিড়ালজাতীয় হিংস্র পশুরা ওদের প্রস্রাব ছিটিয়ে  নিজেদের সীমানা বা এলাকা নির্ধারণ করে? মানুষের কাছে এটা অদ্ভুত মনে হলেও, বাঘেদের দুনিয়ায় এটা হল ওদের নিজস্ব ‘সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট’! এই গন্ধ শুকেই অন্য বাঘেরা বুঝতে পারে ওই বাঘিনীটি কতটা শক্তিশালী, সে পুরুষ না কি স্ত্রী। এটি একাধারে শত্রুদের জন্য এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি, আবার অন্যদিকে জীবনসঙ্গীকে কাছে ডাকার প্রেমের আমন্ত্রণও বটে!”

 

?utm_source=ig_web_button_share_sheet

 

ফটোগ্রাফার জানান, মধ্যপ্রদেশের বিখ্যাত পেঞ্চ জাতীয় উদ্যানে সাফারি করার সময় হঠাৎ এই বাঘিনীটি ওঁদের গাড়ির সামনে চলে আসে। বাঘিনীটিকে একটি গাছের দিকে এগিয়ে যেতে দেখেই অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফার বুঝতে পেরেছিলেন যে সে এবার ‘সেন্ট-মার্কিং’ করবে।কিন্তু বাঘিনীর ঠিক সামনে অন্য একটি সাফারি গাড়ি চলে আসায় ওঁর সামনের অংশের ছবি নেওয়া সম্ভব ছিল না। তাই ফটোগ্রাফার বুদ্ধি খাটিয়ে ওঁর ক্যামেরাটি পোর্ট্রেট ওরিয়েন্টেশনে ঘুরিয়ে শুধুমাত্র বাঘিনীর পিছনের অংশ এবং প্রস্রাব ছিটানোর নিখুঁত মুহূর্তটি ওঁর ক্যামেরায় বন্দি করেন।

ছবিটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। কমেন্ট বক্সে হাসির রোল ওঠার পাশাপাশি শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক!

মজার ছলে একজন লিখেছেন, “দেখে মনে হচ্ছে বাঘিনীটি বেশ ভাল-ই জল খায়, ওঁর শরীরে হাইড্রেশনের কোনও অভাব নেই!” আরেকজন মুগ্ধ হয়ে লিখেছেন: “অসাধারণ ও আকর্ষণীয় ছবি! এটাই এই বছরের সেরা ছবি।”

তবে বন্যপ্রাণের এমন ব্যক্তিগত মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন একাংশ। এক নেটিজেন কটাক্ষ করে লিখেছেন, “এবার বোধহয় পশুদের জন্যও ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার’ আইন আনা দরকার।” অন্য একজন প্রশ্ন তুলেছেন, “একটা বাঘের হিসি করার ছবি তোলার পেছনে ঠিক কী মাহাত্ম্য লুকিয়ে আছে?” বিতর্ক যাই থাক, বন্য প্রকৃতির এই অমোঘ নিয়ম যে নেটিজেনদের এক লহমায় স্তব্ধ করে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।