একটি ছাতার খোঁচায় কি আস্ত একটা কাচের ব্রিজ ভেঙে যেতে পারে? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, মধ্য চীনের এক বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রে ঠিক এমনটাই ঘটেছে। এক কিশোরের ছাতার ধাক্কায় চিনের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং বিশ্বখ্যাত গ্লাস ব্রিজের কাচ ফেটে চৌচির হয়ে গেল। এই ঘটনার পর পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ব্রিজের স্থায়িত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও চর্চা শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ চীনের সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০শে জুন চিনের হেনান প্রদেশের বিখ্যাত ‘বাওকুয়ান ক্লিফ ওয়ার্ল্ড সিনিক এরিয়া’-তে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।
বাওকুয়ান সিনিক এরিয়াটি চিনের অন্যতম শীর্ষ সারির পর্যটন কেন্দ্র। সেখানে অবস্থিত এই কাচের ব্রিজের ওপর যখন পর্যটকেরা ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, তখনই হঠাৎ একটি কাচের প্যানেলে বড়সড় ফাটল দেখা যায়। ঘটনাটি নজরে আসতেই ওই কাচের ওপর থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ব্রিজের নিরাপত্তাকর্মীরা না করে দ্রুত সমস্ত পর্যটকদের সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান। পুরো ব্রিজটি খালি করে দেওয়া হয়। স্বস্তির বিষয় এটাই যে, এই ঘটনায় কোন ও পর্যটক জখম হননি। পরবর্তীতে ফাটল ধরা অংশটি ঘিরে রেখে ব্রিজের বাকি অংশ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
যে কাচের ব্রিজটি নিয়ে এত শোরগোল, সেটি কিন্তু সাধারণ কোনও কাঠামো নয়। ২০২৩ সালে এই বাওকুয়ান গ্লাস ভিউয়িং প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বের বৃহত্তম কাচের ভিউয়িং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এর স্বীকৃতি পেয়েছে।
ডিজাইন ও উচ্চতা: মেঘের আকৃতির এই প্ল্যাটফর্মটি দোতলা বিশিষ্ট, যার মোট হাঁটার জায়গা ১,৭০০ স্কোয়্যার মিটারেরও বেশি।
ভয়ঙ্কর সুন্দর: পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই কাচের ব্রিজটি ভূমি থেকে প্রায় ১৮০ মিটার উঁচুতে শূন্যে ঝুলে রয়েছে। এখান থেকে থাইহাং পর্বতমালার লাল বেলেপাথর এবং খাড়া পাহাড়ের বুক কাঁপানো দৃশ্য দেখা যায়।
ঘটনার পরদিনই পর্যটন কেন্দ্রের এক মুখপাত্র জানান, এক কিশোর নিজের ছাতা দিয়ে কাচের ওপর সজোরে খোঁচা মারার কারণেই এই ফাটল ধরেছে। তবে বড় কোনও বিপদের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এই প্ল্যাটফর্মটি অত্যন্ত শক্তিশালী তিন স্তরের ল্যামিনেটেড সেফটি গ্লাস দিয়ে তৈরি। কিশোরের ছাতার আঘাতে কেবল মাত্র একটি প্যানেলের সবচেয়ে উপরের স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ব্রিজের সামগ্রিক শক্তি, ওজন বহন ক্ষমতা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনও ক্ষতি হয়নি।”
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত কাচটি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং আসল গ্লাস সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঠিক একই ব্র্যান্ড ও মানের একটি নতুন কাচ এনে তা প্রতিস্থাপন করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক মানের এত বড় একটি কাচের কাঠামো যদি একটি সাধারণ ছাতার আঘাতে ফেটে যেতে পারে, তবে বড় কোনো দুর্যোগে পর্যটকদের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত?















