আপনার শরীরে জন্ম থেকেই কোনও লাল, নীল বা বেগুনি রঙের জন্মদাগ রয়েছে? অথবা ত্বকের নিচে নরম একটি গাঁট বা ফোলা অংশ রয়েছে, যা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে? অনেকেই এমন লক্ষণকে সাধারণ জন্মদাগ, চর্বির গাঁট বা ত্বকের সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের লক্ষণ কখনও কখনও ভাসকুলার ম্যালফরমেশন-এর ইঙ্গিত হতে পারে। এটি রক্তনালির জন্মগত একটি সমস্যা, যা সময়মতো ধরা না পড়লে জটিল আকার নিতে পারে।


ভাসকুলার ম্যালফরমেশন কী? ভাসকুলার ম্যালফরমেশন হল এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের রক্তনালি, শিরা, ধমনি বা লিম্ফ নালিগুলি স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয় না। এই সমস্যা জন্ম থেকেই থাকে। তবে অনেক সময় শৈশবে এর কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা শরীরে হরমোনের পরিবর্তন, আঘাত বা গর্ভাবস্থার মতো পরিস্থিতিতে এটি বড় হতে শুরু করে এবং তখন সমস্যা ধরা পড়ে।


এই রোগের লক্ষণ সকলের  ক্ষেত্রে একরকম হয় না। তবে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায়, সেগুলি হল- ত্বকের নিচে নরম বা স্পঞ্জের মতো গাঁট, লাল, নীল বা বেগুনি রঙের জন্মদাগের মতো দাগ, আক্রান্ত জায়গা ধীরে ধীরে ফুলে যাওয়া, ব্যথা বা ভারী লাগা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বা ব্যায়াম করলে ফোলাভাব বেড়ে যাওয়া৷ কখনও কখনও রক্তপাত বা ক্ষত তৈরি হওয়া, হাত বা পায়ের কোনও অংশ অন্যটির তুলনায় বড় হয়ে যাওয়া।


কেন এই সমস্যা হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনও সংক্রামক রোগ নয় এবং জীবনযাপনের ভুলের জন্যও হয় না। ভ্রূণ অবস্থায় রক্তনালির গঠন ঠিকমতো না হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়। অর্থাৎ, এটি একটি জন্মগত সমস্যা।


কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? শরীরে থাকা কোন জন্মদাগ না গাঁট যদি দ্রুত বড় হতে থাকে, ব্যথা শুরু হয়, বারবার ফুলে যায়, রং বদলে যায়, রক্তপাত হয় বা দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।