সময় ভ্রমণ বা টাইম ট্রাভেল সত্যিই সম্ভব কিনা, তা নিয়ে বহু বছর ধরেই বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। এর মধ্যেই এক যুবকের দাবি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। তাঁর দাবি, তিনি নাকি বর্তমান সময় থেকে ৯২ বছর ভবিষ্যতে গিয়ে আবার ফিরে এসেছেন। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতের পৃথিবীতে কী ঘটবে, সে সম্পর্কেও একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন তিনি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি ভবিষ্যতের পৃথিবীতে গিয়ে দেখেছেন যে বিশ্ব এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে। তাঁর দাবি, আগামী দিনে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে। সেই যুদ্ধে আগের যে কোনও যুদ্ধের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অত্যাধুনিক ড্রোন, রোবট এবং শক্তিশালী অস্ত্র যুদ্ধের চেহারাই বদলে দেবে বলে তিনি দাবি করেছেন।
ওই যুবকের আরও দাবি, যুদ্ধের ফলে বহু দেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। কোটি কোটি মানুষ সমস্যায় পড়বেন এবং বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। তবে তাঁর মতে, এই কঠিন সময় কাটিয়ে মানবসভ্যতা আবার ঘুরে দাঁড়াবে। নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে ভবিষ্যতের মানুষ আরও উন্নত জীবনযাপন করবে বলেও তিনি দাবি করেছেন।

তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ তাঁর কথাকে বিশ্বাস করেছেন, আবার অনেকেই পুরো ঘটনাকে নিছক প্রচারের কৌশল বা কল্পকাহিনি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অনেক নেটিজেন মজার মন্তব্যও করেছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওই ব্যক্তির দাবির পক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তিনি সত্যিই ভবিষ্যতে গিয়েছিলেন, এমন কোনও তথ্য বা নথিও সামনে আসেনি। তাই তাঁর বক্তব্যকে সত্য বলে মানার কোনও ভিত্তি নেই।

বিজ্ঞানীদের মতে, সময় ভ্রমণ নিয়ে গবেষণা এখনও চলছে। পদার্থবিদ্যার কিছু তত্ত্বে সময় ভ্রমণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও, মানুষ বাস্তবে ভবিষ্যতে গিয়ে আবার বর্তমান সময়ে ফিরে এসেছে, এমন কোনও প্রমাণ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই এই ধরনের ভাইরাল ভিডিও বা দাবিকে তথ্য হিসেবে নয়, বরং বিনোদনমূলক বিষয় হিসেবেই দেখা উচিত। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত দাবি যাচাই না করে বিশ্বাস করা ঠিক নয়।