অনেকেই মনে করেন, বেশি খাওয়া বা শরীরচর্চা না করার কারণেই শুধু ওজন বাড়ে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ঘাটতিও ওজন বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। শরীরে কয়েকটি ভিটামিনের অভাব হলে বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম ধীর হয়ে যেতে পারে। ফলে সহজেই মেদ জমতে শুরু করে। 


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ভিটামিন ডি। এই ভিটামিন শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখতে সাহায্য করে। শরীরে ভিটামিন ডি কমে গেলে ক্যালোরি বার্ন করার গতি কমে যেতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পেতে ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খেতে পারেন। প্রতিদিন কিছুক্ষণ সকালের রোদে থাকাও উপকারী।

 

ভিটামিন বি-গ্রুপ, বিশেষ করে বি-১২ এবং অন্যান্য বি ভিটামিনও শরীরে খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং কর্মশক্তি কমে যেতে পারে। ফলে শরীরচর্চা বা দৈনন্দিন কাজ কম হওয়ায় ওজন বাড়তে পারে। দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, গোটা শস্য ও সবুজ শাকসবজি থেকে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।


শুধু ভিটামিন নয়, শরীরে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতিও ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই একপেশে ডায়েট না করে সুষম খাবার খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমাতে গিয়ে না খেয়ে থাকা বা নিজের ইচ্ছামতো ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। এতে উল্টে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। যদি ওজন দ্রুত বাড়তে থাকে, দীর্ঘদিন ক্লান্তি লাগে বা অন্য কোনও সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করে ভিটামিনের ঘাটতি আছে কি না জেনে নেওয়া উচিত।


সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই ওজন নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করলে শরীর সুস্থ রাখা সহজ হবে।