ওজন কমানোর কথা ভাবলে অনেকেই প্রথমে ভাত আর রুটি খাওয়া বন্ধ করে দেন। কার্বোহাইড্রেট খেলে শরীরে মেদ বাড়ে, এই ধারণা প্রচলিত রয়েছে। যা আদতে ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তমান্না ভাটিয়ার ফিটনেস কোচ। অভিনেত্রীর কোচের মতে, রোগা হতে বা ফিট থাকতে ভাত-রুটি একেবারে ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক নিয়মে খেলে এই খাবারগুলোও স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে।


ফিটনেস কোচ মনে করেন, কার্বোহাইড্রেট আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস। সারাদিন কাজ করা, হাঁটা, ব্যায়াম করা, এমনকী মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করার জন্যও কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন। তাই হঠাৎ করে ভাত বা রুটি খাওয়া বন্ধ করে দিলে অনেকেরই দুর্বল লাগে, মাথা ঘোরে, কাজ করার শক্তি কমে যায়। দীর্ঘদিন এমন করলে শরীরের উপর খারাপ প্রভাবও পড়তে পারে।


তিনি বলেন, আসল সমস্যা ভাত বা রুটিতে নয়, সমস্যা হল অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাসে। যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভাত বা রুটি খাওয়া হয়, তাহলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে যায়। আর সেই ক্যালোরিই ধীরে ধীরে ওজন বাড়ায়। তাই একসঙ্গে অনেকটা না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া সবচেয়ে ভাল।


তামান্নার ফিটনেস কোচ একটি সহজ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি খাবারে কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে অবশ্যই প্রোটিন এবং আঁশযুক্ত খাবার রাখুন। অর্থাৎ শুধু এক থালা ভাত খেলে হবে না। তার সঙ্গে ডাল, মাছ, ডিম, চিকেন, পনির, সয়াবিন বা ডালজাতীয় খাবার এবং প্রচুর সবজি রাখতে হবে। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বারবার খিদেও পায় না।


তিনি আরও বলেন, ওজন কমানোর জন্য শুধু খাবার কমিয়ে দিলেই হবে না। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা বা শরীরচর্চা করা জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, পর্যাপ্ত জল পান এবং মানসিক চাপ কম রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুম কম হলে বা মানসিক চাপ বেশি থাকলে অনেক সময় ওজন কমানো কঠিন হয়ে যায়।


বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সাদা ভাত বা আটার রুটি খাওয়া যায়। তবে পরিমাণ বুঝে খেতে হবে। চাইলে ব্রাউন রাইস, লাল চাল বা আটার রুটি বেছে নেওয়া যেতে পারে। সেই সঙ্গে মিষ্টি, কোলড্রিঙ্কস, কেক, পেস্ট্রি, বিস্কুট, চিপস ও অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কোনও একটি খাবারকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। সুস্থ থাকতে হলে সুষম খাবার খেতে হবে। অর্থাৎ ভাত, রুটি, প্রোটিন, সবজি, ফল-সবই পরিমাণমতো খাদ্যতালিকায় রাখা দরকার। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে ভাল উপায়। তাই রোগা হওয়ার জন্য ভাত-রুটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং বুদ্ধি করে খাওয়াই আসল কৌশল।