কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজেই ব্যবহার হচ্ছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রও এর বাইরে নয়। বর্তমানে অনেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগ নির্ণয়, রিপোর্ট বিশ্লেষণ, চিকিৎসার পরিকল্পনা এবং রোগীর তথ্য সংরক্ষণের মতো নানা কাজে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসা পরিষেবা আরও দ্রুত ও নির্ভুল হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই যতই উন্নত হোক না কেন, একজন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা, বিচারবুদ্ধি এবং মানবিকতার বিকল্প হতে পারবে না।
এআই-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটি অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে। এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দ্রুত দেখে সম্ভাব্য সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে। এতে অনেক রোগ আগেই ধরা পড়ে এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে ক্যানসার, হৃদরোগ বা ফুসফুসের কিছু রোগ শনাক্ত করতে এআই চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করছে।
শুধু রোগ শনাক্ত নয়, হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। রোগীর পুরনো চিকিৎসার নথি খুঁজে বের করা, অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় ঠিক করা, ওষুধের তালিকা তৈরি, এমনকি জরুরি রোগীকে আগে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এআই সাহায্য করছে। এতে চিকিৎসকদের অনেক সময় বাঁচছে। সেই সময় তাঁরা রোগীর সঙ্গে কথা বলতে, সমস্যা বুঝতে এবং আরও ভাল চিকিৎসা দিতে পারছেন।
তবে চিকিৎসা শুধু রিপোর্ট দেখে ওষুধ লিখে দেওয়ার বিষয় নয়। একজন রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে আসেন, তখন তিনি শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়, মানসিক উদ্বেগও নিয়ে আসেন। অনেক সময় রোগী ভয় পান, দুশ্চিন্তায় থাকেন বা নিজের সমস্যা ঠিকভাবে বোঝাতে পারেন না। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা, তাঁর আশ্বাস এবং সহানুভূতি রোগীকে অনেকটাই স্বস্তি দেয়। এই মানবিক সম্পর্ক কোনও যন্ত্র বা এআই তৈরি করতে পারে না।
এআই ভুলও করতে পারে। যদি ভুল তথ্য দেওয়া হয় বা কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ে যায়, তাহলে ভুল পরামর্শও দিতে পারে। তাই এআই যে তথ্য দেয়, তা সবসময় চিকিৎসকরাই যাচাই করে দেখেন এবং রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। অর্থাৎ, এআই চিকিৎসকের সহকারী হতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব চিকিৎসকেরই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার আরও বাড়বে। নতুন নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে রোগ আরও দ্রুত ধরা পড়বে এবং চিকিৎসাও আরও উন্নত হবে। কিন্তু রোগীর প্রতি দায়িত্ব, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া, পরিবারের সঙ্গে কথা বলা, রোগীকে মানসিকভাবে শক্ত রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা বদলানোর মতো কাজ একজন চিকিৎসকই সবচেয়ে ভালো করতে পারেন।
জাতীয় চিকিৎসক দিবসে মনে রাখা জরুরি, প্রযুক্তি চিকিৎসকদের কাজ সহজ করছে ঠিকই, কিন্তু চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দু এখনও মানুষ। এআই এবং চিকিৎসক একসঙ্গে কাজ করলে রোগীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। আধুনিক প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক, একজন দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসকের প্রয়োজন কখনও কমবে না।















