বর্ষা মানেই একদিকে স্বস্তির বৃষ্টি, অন্যদিকে আর্দ্রতার জন্য দুর্ভোগ। টানা বৃষ্টিতে ঘরে সোঁদা গন্ধ, জামাকাপড়ে ছত্রাক, রান্নাঘরে পোকামাকড়, ত্বকের নানা সমস্যা-সব মিলিয়ে নাজেহাল অবস্থা। তবে সামান্য কিছু ঘরোয়া কৌশল জানলেই বর্ষার এই ঝামেলা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
* ঘরে সোঁদা গন্ধ: বর্ষাকালে সূর্যের আলো কম থাকায় ঘরের ভেতরে আর্দ্রতা জমে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ হয়। প্রতিদিন অন্তত কিছুক্ষণ জানালা-দরজা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। ঘরের কোণে ছোট বাটিতে বেকিং সোডা বা কাঠকয়লা রেখে দিলে দুর্গন্ধ শোষণ হয়। সপ্তাহে একদিন ফিনাইল বা ভিনিগার মিশিয়ে মেঝে পরিষ্কার করুন। আলমারি ও ড্রয়ারে নিমপাতা বা কর্পূর রাখলেও গন্ধ কমে।
* জামাকাপড়ে দুর্গন্ধ: বর্ষায় কাপড় ঠিকমতো না শুকোলে দুর্গন্ধ হওয়া স্বাভাবিক। কাপড় ধোওয়ার সময় শেষবারের জলে সামান্য ভিনিগার মিশিয়ে নিন। কাপড় ঘরের ভেতরে শুকোলেও ফ্যানের নিচে রাখুন। পুরোপুরি শুকনো না হলে আলমারিতে রাখবেন না। আলমারিতে সিলিকা জেল বা নিমপাতা রাখলে আর্দ্রতা কম থাকে।
* ত্বকের সমস্যা : ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে ব্রণ, ফুসকুড়ি ও ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ে। দিনে দু'বার মুখ পরিষ্কার করুন। তেলতেলে প্রসাধনী এড়িয়ে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। বাইরে থেকে ফিরে হাত-পা ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। পায়ের আঙুলের ফাঁক শুকনো রাখুন। ভেজা জুতো বা মোজা দীর্ঘক্ষণ পরে থাকবেন না।
* রান্নাঘর থাকুক শুকনো: বর্ষায় মশলা ও শুকনো খাবারে সহজেই আর্দ্রতা ঢুকে যায়। কৌটোর ঢাকনা সবসময় শক্ত করে বন্ধ রাখুন। মশলার কৌটোয় কয়েকটি শুকনো তেজপাতা বা লবঙ্গ রাখতে পারেন। চিনি বা নুনের পাত্রে আর্দ্রতা ঢুকলে জমাট বাঁধে। তাই শুকনো চামচ ব্যবহার করুন। ডাল, চাল বা আটার পাত্রে নিমপাতা রাখলে পোকা হওয়ার আশঙ্কা কমে।
* পোকামাকড়কে বলুন বিদায়: বর্ষায় মশা, মাছি, আরশোলা ও পিঁপড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই কোথাও জল জমতে দেবেন না। সন্ধের আগে দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন। নিমপাতা বা কর্পূরের ধোঁয়া অনেক সময় পোকামাকড় দূরে রাখতে সাহায্য করে। রান্নাঘর পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
* সুস্থ থাকতে সচেতনতা: বর্ষায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখা জরুরি। ফুটানো বা বিশুদ্ধ জল পান করুন। বাইরে কাটা ফল বা বাসি খাবার খাবেন না। আদা, তুলসি, গোলমরিচ দিয়ে গরম চা খেতে পারেন। ভেজা পোশাক দ্রুত বদলে ফেলুন। পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।
* জুতো ও ব্যাগের বাড়তি যত্ন: ভিজে জুতো কাগজ ভরে শুকোতে দিন। জুতো শুকনো না হলে পরবেন না।ব্যাগ ভিজে গেলে ছায়ায় শুকিয়ে তবেই ব্যবহার করুন।
* স্যাঁতস্যাঁতে নয় বিছানা ও বালিশ: বর্ষায় বিছানায় স্যাঁতসেঁতে ভাব থাকলে ছত্রাক জন্মাতে পারে। সপ্তাহে অন্তত একদিন বিছানার চাদর বদলান। সুযোগ পেলে বালিশ ও তোষক রোদে দিন। রোদ না থাকলে ফ্যানের নিচে কিছুক্ষণ রেখে ব্যবহার করুন।
* গ্যাজেট থাকুন নিরাপদ: আর্দ্রতার কারণে অনেক সময় ইলেকট্রনিক যন্ত্রে সমস্যা হয়। ব্যবহার না করলে ঢেকে রাখুন। ভেজা হাতে সুইচ বা প্লাগ স্পর্শ করবেন না। আর্দ্র জায়গায় যন্ত্রপাতি রাখবেন না।
* ছোট ছোট অভ্যাসেই স্বস্তি
ছাতা ব্যবহার শেষে শুকিয়ে রাখুন।
ঘরের কোণ নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
ডাস্টবিন প্রতিদিন খালি করুন।
শিশু ও বয়স্কদের ভেজা পরিবেশে বেশি সময় থাকতে দেবেন না।
বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঘর ও শরীরের যত্ন নিতে হবে। খুব বেশি খরচ নয়, বরং কয়েকটি সাধারণ ঘরোয়া অভ্যাসই এই মরশুমে অনেক বেশি স্বস্তিতে থাকতে পারেন। তবে জ্বর, তীব্র ত্বকের সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনও গুরুতর সমস্যা হলে শুধু ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।















