গরমকাল এলেই বাজারে আমের ছড়াছড়ি। ছোট থেকে বড়, প্রায় সকলেরই এই ফল খেতে ভালবাসেন। কিন্তু আম খাওয়ার পর আমরা সাধারণত আঁটি ফেলে দিই। কিন্তু জানেন কি আমের আঁটির ভেতরের অংশ দিয়েও সুস্বাদু ও পুষ্টিকর তরকারি তৈরি করা যায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও এই ঐতিহ্যবাহী রান্না জনপ্রিয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমের আঁটির ভেতরে থাকা শাঁসে বেশ কিছু উপকারী পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এতে ফাইবার থাকে, যা হজমে সাহায্য করে। এছাড়া কিছু অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও পাওয়া যায়, যা শরীরকে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

উপকরণঃ আমের আঁটির ভেতরের শাঁস ৪-৫টি, আলু ২টি (কিউব করে কাটা), বেগুন ১টি, সর্ষের তেল ২ টেবিল চামচ, কালোজিরে ১/২ চা চামচ, শুকনো লঙ্কা ২টি, হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ, লঙ্কার গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, নুন স্বাদমতো, চিনি ১/২ চা চামচ, কাঁচা লঙ্কা ২টি, জল পরিমাণমতো, ধনেপাতা কুচি সামান্য

প্রণালীঃ প্রথমে আমের আঁটি ভালভাবে ধুয়ে বাইরের শক্ত খোলস ভেঙে ভেতরের সাদা শাঁস বের করে নিন। ছোট ছোট টুকরো করে কেটে রাখুন। কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে কালোজিরে ও শুকনো লঙ্কার ফোড়ন দিন। এবার আলু ও বেগুন দিয়ে ২-৩ মিনিট ভেজে নিন। তারপর আমের আঁটির টুকরোগুলো দিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন। হলুদ, লঙ্কার গুঁড়ো, নুন ও সামান্য চিনি দিয়ে মশলা কষিয়ে নিন। 

প্রয়োজনমতো জল ঢেলে ঢাকনা দিয়ে ১০-১৫ মিনিট রান্না করুন, যাতে আলু ও আঁটি ভালভাবে সেদ্ধ হয়ে যায়। শেষে কাঁচা লঙ্কা চিরে দিন এবং আরও ২ মিনিট ফুটিয়ে নিন। ধনেপাতা ছড়িয়ে গরম গরম নামিয়ে নিন। 

এই রান্নার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এতে খাবারের অপচয় কমে। সাধারণত যে আঁটি আমরা ফেলে দিই, সেটিই একটি নতুন খাবারে পরিণত হয়। 

অনেক গ্রামের বাড়িতে এখনও আমের আঁটির চচ্চড়ি, ঝোল বা ভর্তা তৈরি করা হয়। গরম ভাতের সঙ্গে এই পদ খেতে বেশ সুস্বাদু লাগে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই রান্নার কদর বেশি।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। পচা বা নষ্ট আমের আঁটি কখনও ব্যবহার করা উচিত নয়। টাকটা ও পরিষ্কার আঁটি ব্যবহার করলেই ভাল স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়।

তাই এবার আম খাওয়ার পর আঁটি ফেলে দেবেন না। সামান্য পরিশ্রমে সেই আঁটি দিয়েই তৈরি হতে পারে একেবারে অন্যরকম স্বাদের একটি ঘরোয়া তরকারি। এতে যেমন নতুন স্বাদের খাবার পাওয়া যাবে, তেমনই খাদ্যের অপচয়ও কমবে।