কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জেপি নাড্ডা সোমবার অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত (এএমবি) অভিযানের জন্য কার্যকরী নির্দেশিকা প্রকাশ করবেন। অ্যানিমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এটি একটি উদ্যোগ৷ রবিবার একটি সরকারি বিবৃতিতে এই বিষয় জানানো হয়েছিল। নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ পরিষদের ১৬ তম বৈঠকে নাড্ডা এই নির্দেশিকা প্রকাশ করবেন৷
শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং যুবতীদের রক্তাল্পতার (অ্যানিমিয়া) হার কমাতে আরও জোরদার পদক্ষেপ করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র সরকার। এর জন্য প্রতিরোধমূলক আয়রন সাপ্লিমেন্ট, কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়ার সঙ্গে রক্ত পরীক্ষা করার ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগ ভারতের অ্যানিমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি নতুন অধ্যায়। ‘অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত’ কর্মসূচি এখন রূপান্তরিত হয়ে ‘অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত অভিযান’-এ পরিণত হবে। এর মাধ্যমে কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত, জনকেন্দ্রিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা হবে।
নতুন কর্মসূচি শুধু আয়রন সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। রক্ত পরীক্ষা করানো, চিকিৎসার ব্যবস্থা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ডিজিটাল নজরদারি এবং ‘জন চেতনা’র মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সুস্থতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
১৬তম CCHFW বৈঠকে অপারেশনাল গাইডলাইন প্রকাশের মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার জন্য অ্যানিমিয়া সংক্রান্ত সরকারি পরিষেবাগুলি মানুষ ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না তা দেখার জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি করা হবে৷
গর্ভবতী মহিলাদের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষার তথ্য JANANI (Journey of Antenatal, Natal and Neonatal Integrated Care) পোর্টালের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে। শিশুদের তথ্য রাখা হবে রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম( Rashtriya Bal Swasthya Karyakram) সংক্ষেপে (RBSK) এবং Universal Immunisation WIN (U-WIN) পোর্টালে। এই সমস্ত প্ল্যাটফর্ম একত্রিত হয়ে ‘অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত অভিযান পোর্টাল’-এ যুক্ত হবে, যার মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করা যাবে।
এই অভিযানের T3 পদ্ধতি টেস্ট, ট্রিট, টক (Test, Treat, Talk)-এর পরিবর্তে T4 পদ্ধতি টেস্ট, ট্রিট, টক, ট্র্যাক (Test, Treat, Talk and Track)-এর প্রয়োগ করা হবে৷
নতুন কৌশলে আরও বেশি হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা, জাতীয় অ্যানিমিয়া ব্যবস্থাপনা নীতি অনুযায়ী আয়রনের ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়ার চিকিৎসা, নিয়মিত নজরদারি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সচেতনতার উপর জোর দেওয়া হবে।















