ঘরোয়া টোটকার কথা উঠলেই অনেকে ভেষজ পানীয়র কথা বলেন। আমাদের হাতের কাছে এমন অনেক উপাদান রয়েছে যা শরীর-স্বাস্থ্য ভাল রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তেমনই একটি উপাদান হল পানপাতা। এই পাতার অনেক স্বাস্থ্যসম্মত উপকারিতা রয়েছে। 


বিশেষ করে ফুটন্ত গরম জলে পানপাতা, এক টুকরো দারচিনি, এক চামচ কালোজিরে, কিছুটা আদা ও রসুন কুচি, কয়েকটি লবঙ্গ এবং কয়েকটি গোলমরিচ দিয়ে ফুটিয়ে সেই জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেকের দাবি, নিয়মিত এই পানীয় খেলে শরীরের ব্যথা কমে, খুসখুসে কাশি সারে এবং মুখের দুর্গন্ধও দূর হয়। কিন্তু এই দাবিতে কতটা সত্যতা রয়েছে?


আসলে এই পানীয়র প্রতিটি উপাদানেই কিছু উপকারী গুণ রয়েছে। পানপাতায় এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যা জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। আদা দীর্ঘদিন ধরেই সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথার ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। আদা গলা আরাম দিতে পারে এবং কাশির অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।


রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামের উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। দারচিনি, লবঙ্গ ও গোলমরিচেও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং জীবাণুরোধী কিছু উপাদান রয়েছে।কালোজিরেও এমন কিছু উপাদান আছে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং হজম ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।


সব উপাদান একসঙ্গে ফুটিয়ে গরম গরম পান করলে গলা আর্দ্র থাকে। ফলে খুসখুসে কাশি বা গলা খুচখুচ করার সমস্যা কিছুটা কমতে পারে। লবঙ্গ, দারচিনি ও পানপাতার সুগন্ধ মুখের দুর্গন্ধ সাময়িকভাবে কমাতেও সাহায্য করতে পারে। গরম পানীয় শরীরে আরাম দেয় বলেই অনেকের শরীরের হালকা ব্যথা বা ক্লান্তিও কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে।


তবে মনে রাখতে হবে, এই পানীয় কোনও ওষুধ নয়। যদি শরীরের ব্যথা অনেক দিন ধরে থাকে, কাশি দুই সপ্তাহের বেশি না কমে, জ্বর আসে বা মুখের দুর্গন্ধ নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এসব সমস্যার পেছনে অন্য কোনও রোগও থাকতে পারে।


এছাড়া এই পানীয় অতিরিক্ত পরিমাণে পান করা উচিত নয়। বেশি রসুন বা দারচিনি খেলে কারও কারও অম্বল, পেট জ্বালা বা হজমের সমস্যা হতে পারে। যাঁদের গর্ভাবস্থা চলছে, যাঁরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান বা অন্য কোনও দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন, তাঁদের নিয়মিত এই ধরনের ভেষজ পানীয় খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।


সবমিলিয়ে, এই পানীয় শরীরকে উষ্ণ রাখতে, গলার অস্বস্তি কমাতে এবং মুখের দুর্গন্ধ কিছু সময়ের জন্য কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটিকে কোনও রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা ভাবা উচিত নয়। সুস্থ থাকতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত জল পান, ভাল ঘুম এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।