সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই নানা ধরনের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত টোটকা ভাইরাল হয়। সম্প্রতি এমনই একটি দাবি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, মাইগ্রেনের তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে রাবড়ি-জিলিপি খেলেই নাকি ব্যথা অনেকটা কমে যায়। কেউ কেউ নিজের অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করছেন। কিন্তু সত্যিই কি এই মিষ্টি খাবার মাইগ্রেনের ওষুধ? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, সব মানুষের মাইগ্রেনের কারণ এক নয়। কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে মাথাব্যথা শুরু হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে কম ঘুম, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উজ্জ্বল আলো, জোরে শব্দ বা হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও মাইগ্রেন হতে পারে। তাই একটি খাবার সকলের ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়।
তাহলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রাবড়ি-জিলিপি খেয়ে আরাম কেন হয়? বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। এতে মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। রাবড়ি ও জিলিপিতে প্রচুর চিনি এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে। এগুলো খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে। তাই যাঁদের মাইগ্রেনের কারণ কমে যাওয়া ব্লাড সুগার, তাঁদের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে ব্যথা কিছুটা কমতে পারে।
তবে এই আরাম অস্থায়ী। এর অর্থ এই নয় যে রাবড়ি-জিলিপি মাইগ্রেনের চিকিৎসা। বরং অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস বা অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার উল্টে মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়িয়েও দিতে পারে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, মাইগ্রেনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা। ব্যথা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেলে সুফল পাওয়া যায়। শুধু ভাইরাল টোটকার উপর নির্ভর করলে রোগের সঠিক চিকিৎসা দেরি হতে পারে।
এছাড়া রাবড়ি ও জিলিপিতে প্রচুর চিনি, ফ্যাট এবং ক্যালোরি থাকে। নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে খেলে ওজন বাড়া, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। তাই শুধুমাত্র মাইগ্রেন কমানোর আশায় বারবার এই মিষ্টি খাওয়া মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে না থাকা, প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করা, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমানো, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা।নিজের মাইগ্রেনের ট্রিগার চিহ্নিত করে তা এড়িয়ে চলা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া।
যদি বারবার মাইগ্রেনের ব্যথা হয় বা ব্যথা খুব তীব্র হয়, তাহলে নিজে নিজে টোটকা ব্যবহার না করে অবশ্যই একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সব তথ্য সঠিক নয়। তাই কোনও দাবি বিশ্বাস করার আগে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যের উপরই ভরসা করুন।















