কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পর অনেকেই হাতে ঝিনঝিনি, অবশভাব বা সূচ ফোটার মতো অনুভূতি টের পান। বেশিরভাগ মানুষ এটিকে সাময়িক ক্লান্তি বলে এড়িয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের মতে, বারবার এমন হলে তা স্নায়ু বা কবজির সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে টাইপ করলে হাত ও কবজির স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে। এর ফলে আঙুল, তালু বা কবজিতে ঝিনঝিনি অনুভূতি দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি কার্পাল টানেল সিনড্রোম-এর লক্ষণও হতে পারে। এই সমস্যায় কবজির ভেতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু চাপে পড়ে যায়, যার ফলে হাত অবশ হয়ে আসা, ব্যথা বা দুর্বলতা দেখা দেয়।


কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ রয়েছে, যেগুলি কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন হাতে বারবার ঝিনঝিনি হওয়া, আঙুলে অবশভাব বা অনুভূতি কমে যাওয়া, কোনও জিনিস শক্ত করে ধরতে অসুবিধা হওয়া, কবজি বা হাতে ব্যথা, যা রাতে বেশি অনুভূত হয়, টাইপিং, লেখা বা মোবাইল ব্যবহার করার সময় অস্বস্তি বাড়া, হাতের পেশি দুর্বল হয়ে পড়া।

চিকিৎসকদের মতে, যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে এই উপসর্গগুলি চলতে থাকে বা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা শুরু করলে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।


এই ধরনের সমস্যা এড়াতে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। কাজের মাঝে প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট অন্তর ছোট বিরতি নিন। হাত ও কবজির হালকা স্ট্রেচিং করুন। টাইপ করার সময় কবজি যেন স্বাভাবিক অবস্থানে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। কিবোর্ড ও মাউসের উচ্চতাও সঠিক হওয়া জরুরি। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করলে মাঝেমধ্যে হাতের অবস্থান পরিবর্তন করুন।


এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সঠিক ভঙ্গিতে বসে কাজ করাও স্নায়ুর উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।


হাতে মাঝে মধ্যে ঝিনঝিনি হওয়া সব সময় বড় রোগের লক্ষণ নয়। তবে যদি তা নিয়মিত ঘটে, ব্যথা বা দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো সতর্ক হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্নায়বিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।