মালয়েশিয়ার পেনাং-এর এক বৌদ্ধ ভিক্ষু ব্যাঙ্কের লাকি ড্র জিতে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গিয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ৭৩ বছর বয়সী চ্যান চাই সিয়াং, আগে একটি কারখানায় কাজ করতেন। বর্তমানে একটি নির্জন আশ্রমে থাকেন, তিনি লাকি ড্র থেকে ১০ লক্ষ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (প্রায় ২.২৮ কোটি টাকা) জিতেছেন। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ব্যাঙ্ক তাঁর জয়ের কথা ঘোষণা করে।

 আধিকারিকরা জানান, তিনি ব্যাঙ্কের ‘মিলিয়নেয়ার ড্র’-এর ১২৪তম বিজয়ী। নিজের সঞ্চয় জমা করার পর তিনি এই ড্র-তে অংশ নিয়েছিলেন।

সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে,  চ্যান চাই সিয়াং চল্লিশ বছর বয়সে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। গত তিন দশক ধরে সন্ন্যাস জীবন কাটাচ্ছেন। 

২ কোটির বেশি টাকা লাকি ড্র-তে সন্ন্যাসীর মতে, "সঠিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলেই টাকার আসল মূল্য, যা নিজের এবং অন্যের জীবনে সুখ আনতে পারে।"
তিনি আরও জানান, থাইল্যান্ডের মতো কিছু দেশের তুলনায় মালয়েশিয়ার ভিক্ষুরা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কম পান। তাই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চ্যান বলেন, তাঁর মন্দির এর আগে অসুস্থ ভিক্ষুদের সাহায্য করেছে, এমনকি চিকিৎসার জন্য পেনাং-এ আসা সন্ন্যাসীদেরও সহযোগিতা করেছে। এই অর্থ পাওয়ার ফলে তিনি ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন।

তিনি বলেন, “আমি অল্প অল্প করে সঞ্চয় করেছি। কখনও ১০ রিঙ্গিত, কখনও তার বেশি।” তাঁর এই সঞ্চয়ের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষের দেওয়া দানের অর্থ থেকে এসেছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত৷ 

এই পুরস্কারকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ বলে মনে করেন না চ্যান। তাঁর মতে, এটি তাঁর কাজের ফল বা কর্মফলের (কর্মা) পরিণতি। তিনি বলেন, এটি আগের জন্মের কর্মের ফল হতে পারে, তবে তিনি কখনও অর্থ পাওয়ার জন্য কোনও বিশেষ প্রার্থনা বা মানত করেননি।

অর্থের প্রতি নিজের অনাসক্তির কথা জানিয়ে চ্যান বলেন, তাঁর নিজের এই টাকা প্রয়োজন নেই এবং তিনি তা সমাজের কাজে ব্যবহার করতে চান।
তিনি জানান, অর্থের একটি অংশ অসুস্থ ও অসহায় মানুষদের সাহায্যের জন্য ব্যবহার করবেন। তাঁর বিশ্বাস, দান করা ধর্মীয় অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি আরও বলেন, টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত, কারণ শেষ পর্যন্ত এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের উপকার ও সুখ।
চ্যান মানুষের কাছে অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়ার আবেদন জানান। তাঁর কথায়, “আপনি যদি টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করেন, তাহলে তা আপনাকে এবং অন্যদের সুখী করবে। এটাই অর্থের আসল মূল্য।”