বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু সব ভুলে যাওয়া যে অ্যালঝাইমার্সের লক্ষণ, তা নয়। তবে যদি বারবার একই জিনিস ভুলে যান, পরিচিত মানুষের নাম মনে না থাকে বা দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হয়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ এগুলি অ্যালঝাইমার্স রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

এতদিন এই রোগ নির্ণয়ের জন্য ব্রেনের পিইটি (PET) স্ক্যান, এমআরআই (MRI) বা স্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষা করতে হতো। এগুলি ব্যয়বহুল এবং সব জায়গায় সহজে পাওয়া যায় না। তবে এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানে এসেছে নতুন একটি রক্ত পরীক্ষা, যা রোগের ঝুঁকি অনেক আগেই বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

এই পরীক্ষায় রক্তে এমন কিছু বিশেষ প্রোটিন বা বায়োমার্কার খোঁজা হয়, যেগুলি অ্যালঝাইমার্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে অ্যামাইলয়েড বিটা এবং টাউ নামের প্রোটিনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন মস্তিষ্কে অ্যালঝাইমার্সের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। আগে এই পরিবর্তন বোঝার জন্য জটিল পরীক্ষা করতে হলেও, এখন রক্তের নমুনা থেকেই অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব।

 তবে এই পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এলেই যে নিশ্চিতভাবে অ্যালঝাইমার্স হয়েছে, এমনটা নয়। আবার রিপোর্ট স্বাভাবিক এলেও রোগের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই চিকিৎসকরা রোগীর উপসর্গ, স্মৃতিশক্তির বিভিন্ন পরীক্ষা, শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজন হলে ব্রেন স্ক্যানের রিপোর্টও একসঙ্গে বিচার করেন। অর্থাৎ এটি একটি সহায়ক পরীক্ষা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র উপায় নয়।

কারা এই পরীক্ষা করাবেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি দ্রুত কমছে, একই প্রশ্ন বারবার করছেন, পরিচিত রাস্তা চিনতে অসুবিধা হচ্ছে বা দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক এই পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। এছাড়া পরিবারের কারও অ্যালঝাইমার্সের ইতিহাস থাকলে এবং চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে এই পরীক্ষা করা যেতে পারে।

তবে শুধুমাত্র ভয় বা কৌতূহল থেকে সুস্থ মানুষের এই পরীক্ষা করানো উচিত নয়। কারণ রিপোর্টের সঠিক ব্যাখ্যা চিকিৎসকই করতে পারেন।

কেন দ্রুত রোগ ধরা পড়া গুরুত্বপূর্ণ? অ্যালঝাইমার্সের সম্পূর্ণ নিরাময়ের চিকিৎসা এখনও নেই। কিন্তু রোগটি যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে, তাহলে ওষুধ, মানসিক ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি কিছুটা ধীর করা সম্ভব। এতে রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দীর্ঘদিন বজায় রাখা যায় এবং পরিবারের সদস্যরাও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পান।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিজের বা পরিবারের কারও স্মৃতিশক্তি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে একজন নিউরোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকই জানিয়ে দেবেন এই নতুন রক্ত পরীক্ষা আপনার জন্য দরকার কিনা।