বিনোদন জগৎ থেকে দীর্ঘদিন দূরে রয়েছেন নব্বইয়ের দশকের ম্যাজিক ভয়েস অলকা ইয়াগনিক। অবশেষে তিনি ক্যামেরার সামনে এলেন, তবে কোনও গানের রেকর্ডিং স্টুডিও বা রিয়্যালিটি শো-এর মঞ্চে নয়। গত ২৩ জুন দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘পদ্মভূষণ’ নেনে এই কিংবদন্তি গায়িকা। কিন্তু এই গৌরবময় মুহূর্তের মাঝে তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে চরম উদ্বেগে পড়েছেন কোটি কোটি অনুরাগী। 

পুরস্কার মঞ্চে যাওয়ার সময় অলকাকে বেশ দুর্বল দেখাচ্ছিল এবং হাঁটার জন্য তাঁকে একজন স্বেচ্ছাসেবকের সাহায্য নিতে হয়েছিল। সমাজমাধ্যমে এই ভিডিও ভাইরাল হতেই বলিউডের অন্দরে এবং ভক্তমহলে শোরগোল পড়ে যায়। অনুরাগীদের এই উদ্বেগের অবসান ঘটাতে ২৪ জুন সকালে নিজেই ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট করে তাঁর বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতির আপডেট দিয়েছেন অলকা।

পোস্টে অলকা লিখেছেন, "বিগত দু'বছর ধরে আমি লাইমলাইট, জনসমক্ষ থেকে দূরে রয়েছি। আপনারা অনেকেই জানেন যে আমি এক কঠিন শারীরিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।" পদ্মভূষণ পাওয়ার আনন্দ ভাগ করে তিনি বলেন, "এই সম্মান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। আজ আমি যখন এটি নিতে মঞ্চে পা রেখেছিলাম, আমার মন কৃতজ্ঞতায় ভরপুর ছিল। আমি ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফিরছি। আজ এখানে আসা শুধু নিজের জন্য নয়, আমার সেইসব শ্রোতাদের জন্য যারা চড়াই-উতরাইয়ের মাঝেও আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।"

এর আগে ২০২৪ সালে গায়িকা প্রথমবার প্রকাশ করেছিলেন যে, একটি বিমান থেকে নামার পর তিনি হঠাৎ করেই আর কিছু শুনতে পাচ্ছিলেন না। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, তিনি এক বিরল স্নায়ুজনিত বধিরতা বা 'সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস' (এসএনএইচএল)-এর শিকার হয়েছেন।

কী এই 'SNHL'? চিকিৎসকদের মতে, সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস হল কানের এমন এক জটিল রোগ, যা মূলত ভেতরের কান (কক্লিয়া) কিংবা কান থেকে মস্তিষ্কে শব্দ সংকেত পৌঁছনোর প্রধান স্নায়ুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেখা দেয়। অলকা ইয়াগনিকের ক্ষেত্রে একটি আচমকা তীব্র ভাইরাল সংক্রমণ বা 'ভাইরাল অ্যাটাক'-এর কারণে এই শ্রবণ স্নায়ুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, হঠাৎ করে শোনার ক্ষমতা সম্পূর্ণ বা আংশিক হারিয়ে ফেলা, কানে সবসময় এক ধরণের ভোঁ-ভোঁ শব্দ হওয়া এবং উচ্চস্বরের শব্দ বা কথাবার্তা অস্পষ্ট লাগা। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ অতিরিক্ত চড়া আওয়াজে হেডফোন ব্যবহার, মাথায় আঘাত বা ভাইরাল ইনফেকশন থেকে এই সমস্যা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে এই ক্ষতি চিরস্থায়ী রূপ নিতে পারে।

বর্তমানে থেরাপির মাধ্যমে অলকা ইয়াগনিক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিনোদন দুনিয়ার সহকর্মী থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর ভক্তরা এখন একটাই প্রার্থনা করছেন, পদ্মভূষণে সম্মানিত সুরসম্রাজ্ঞী যেন এই কঠিন লড়াই জয় করে খুব দ্রুত আবার গানের জগতে ফিরতে পারেন।