আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার বিকেলে, সাংবাদিক বৈঠক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর। একেবারে পয়েন্ট ধরে কটাক্ষ নির্বাচন কমিশনকে। কটাক্ষ 'তুঘলকি কমিশন' বলেও। এদিন সাংবাদিক বৈঠকের শুরু থেকেই তোপ কমিশনকে। অন্যদিকে প্রশ্ন তুললেন, কেন বারবার টার্গেট বাংলাকে? বিহারের উদাহরণ টেনে মমতা বলেন, 'বিহারে যেসব নথি এসআইআর করতে গিয়ে অ্যালাউ হল, বাংলায় কেন হবে না?' বিহারের নির্বাচনী নোটিফিকেশনের প্রিন্ট আউট দেখান মুখ্যমন্ত্রী। ১১টি পয়েন্ট তুলে ধরেন। এখানের ১৩টি পয়েন্টের কথাও বলেন। 

এদিন এআই দিয়ে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। মমতা বলেন, ' তুঘলকি কমিশনের একজন বিজেপি কন‍্যা, আইটি সেলের মাধ্যমে এআই করে বাদ  দিয়ে দিলেন দিলেন ৫৮ লক্ষ ভোটারকে। যাদের মধ্যে অনেক আসল ভোটারআছে। সেই চ্যাপ্টার কোথায় গেল?'

তিন নম্বর পয়েন্টে মমতার প্রশ্ন, 'আজ পর্যন্ত আপনা্রা দেখতে পেয়েছেন, কোন ভোটার অ্যাকসেপটেট হলেন, কে হলেন না। এটা দু’নম্বরি চলছে। জোচ্চুরি করার কাজ চলছে।' তাঁর প্রশ্ন, 
' ১৪ তারিখে কেউ মারা গেলে ১৬ তারিখে এসে চিকিৎসক কী দেখবে ? জীবন্ত চিতা দেখবে?'  সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারও মানেনি বলেও তোপ দাগেন।

 

 

'ব্যাকডোর দিয়ে, তুঘলকি কমিশনকে দিয়ে বাংলার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবেন না', সাঁফ হুঁশিয়ারি মমতার। বললেন,  'আমরা ইচ্ছা করলে অনেক মিটিং-মিছিল করে ঘেরাও করে রাখতে পারি। আমরা সহ্য করছি, সহযোগিতা করছি, যাতে এসআইআর ভাল করে হয়।  

ইআরওদের সাসপেনশন নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি বলেন, 'যে ইআরও যে সাসপেন্ড করলেন, তাঁদের কাছে একবার ও জানতে চেয়েছেন, তাঁদের অপরাধ কী? দোষটা কী?' তারপরেই তিনি বলেন, ' এই তুঘলকি কমিশন কতগুলো হোয়াটস অ্যাপ দিয়েছে? ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ- রিফ্রেশমেন্ট-ডিনারে খালি হোয়াটস অ্যাপ। এক একটায়, এক এক রকম। পুরোটাই বেআইনি। আমি জীবনে অনেক নির্বাচন কমিশন দেখেছি। এরকম তুঘলকি কমিশন দেখিনি।' কমিশনকে মনে করালেন আইনের পরিধিও। বললেন, নির্বাচন কমিশনের যেটুকু নিয়ম মানার প্রয়োজন মানবেন। মনে করালেন, 'বাউন্ডারির বাইরে গেলে কিন্তু, ছক্কা খেতে হবে জনগণের।' 

মমতা বলেন, 'ইআরও'রা একটা নাম তুললে বলছে এরর। তার মানে নাম উঠল না। এখন আবার এখনও মাইনরিটি-তপশিলী-গরীব মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছে, গরিব লোক খুঁজছে। সব ধর্ম, সব বর্ণ, সব জাতি, সব সম্প্রদায় আছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে মেয়েদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ইয়ং জেনারেশনকে সুযোগই দিচ্ছে না।' তাঁর প্রশ্ন, '২৪ বছর সময় পেলেন হাতে। কেন আগে থেকে এসআইআর শুরু করলেন না?'  উৎসবের মরসুমে, কেন এই প্রক্রিয়া, ঝাঁঝাল প্রশ্ন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর।