বিউ সরকার, গোপাল সাহা: মুখ্যমন্ত্রী ঘুরে গিয়েছেন। বাকি দুই মন্ত্রী তদারকি করছেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধে, সন্ধে গড়িতে এবার দুয়ারে রাত। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। তার মধ্য়েই মাঝে মাঝে শোনা যাচ্ছে গোঙনির আওয়াজ। তার মানে এখনও ধ্বংস্তূপে আটকে থাকা শ্রমিকদের দেহে প্রাণ রয়েছে। গোঙানি শুনে উদ্ধারকারীরাও লোহা, সিমেন্টের ধ্বংসাবশেষ সরানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ যেন এক অসাধ্য সাধনের পথে এগিয়ে চলা। তবে হাল ছাড়তে নারাজ উদ্ধারকারীরা। বরং ধ্বংসের মাঝে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকাদের উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে তারা জানান দিচ্ছেন, আর একটু,তারপরই সব ঠিক হয়ে যাবে। 

উদ্ধারকারীদের মতে, পুরো ধ্বংসস্তূপের কাজ শেষ করতে আরও আন্তত দু'দিন সময় লাগবে। অনুমান, এখনও অনেকে ধ্বংসস্তূপে আটকে। যাঁরা কর্মরত ছিলেন আটকে রয়েছেন বলেই অনুমান করছেন কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সরা।

তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ে কর্তব্যরত হাওড়া কর্পোরেশনের এক সিনিয়র চিকিৎসক বিমল বন্ধু সাহা জানিয়েছেন, "এখনও পর্যন্ত গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ২৪ জনকে। তাঁদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে চিকিৎসার জন্য। ঘটনাস্থলে হাওড়া এবং কলকাতার মোট ১২-১৪ জন রাজ্য সরকারের অধীনস্থ চিকিৎসক এবং ১২-১৪ জন নার্স ঘটনাস্থলে চিকিৎসার কাজ করছেন। এছাড়াও রয়েছে ভারতীয় সেনার অন্তর্ভুক্ত ইস্টার্ন কমান্ডের চিকিৎসক ও নার্সরা।" 

কলকাতার তারাতলার ব্রেসব্রিজে নির্মীয়মাণ গোডাউনের  ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় সেনা, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী  এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ চেষ্টায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময়ে ওই বিশাল গুদামের ভেতরে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। তবে লোহার সেই বিশালাকার স্তূপের নীচে এখনও ঠিক কতজন শ্রমিক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বা আটকে রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। 

উদ্ধার হওয়া সকলকে গ্রিন করিডোর করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।